লুকিয়ে গৃহবধূর গোসল দেখছিল বখাটে, প্রতিবাদ করায় হামলা-লুটপাট

এক গৃহবধূর গোসলের দৃশ্য দেখার প্রতিবাদ করায় বাড়িতে হামলার ঘটনায় ৬ জন আহত হয়েছেন।
এ সময় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের ভায়াডাঙ্গা বালুরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা উপজেলা সদর ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে, ঘটনার তিন দিন পরও আহতদের পরিবারের লোকজন সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়িতে যেতে পারছেন না।
এ ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হামলার শিকার ৪টি পরিবার।
এ ব্যাপারে শনিবার রাতে থানায় একটি মামলা হয়েছে।

জানা যায়, ভায়াডাঙ্গা বালুচর গ্রামে হতদরিদ্র আব্দুল বারিকের বাড়িতে কিছুদিন যাবত টিউবওয়েল থেকে পানি আসছে না।
এ জন্য ওই বাড়ির লোকজন পার্শ্ববর্তী আব্দুর রহিমের বাড়িতে গিয়ে সেচ পাম্পের পানিতে গোসল করেন।
গত বুধবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে আব্দুল বারিকের স্ত্রী শাহানা বেগম ও তার মেয়ে বিথি (১২) পার্শ্ববর্তী বাড়ির সেচ পাম্পে গোসল করতে যান।
এ সময় প্রতিবেশী লিটন মিয়ার ছেলে বখাটে উসমান (২৮) লুকিয়ে তাদের গোসলের দৃশ্য দেখছিলেন।
ভেজা কাপড় বদলানোর সময় উসমানকে দেখতে পান শাহানা বেগম।
এ সময় শাহানা বেগম তাকে ধমক দিলে উসমান ক্ষিপ্ত হয়ে শাহানা ও তার মেয়ের শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেন।
পরে বাড়ির লোকজন এলে উসমান ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।

এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওইদিন বিকালেই উসমান শাহানা বেগমের শ্বশুর সাবদুলকে বেধম মারধর করেন। এতে গুরুতর আহত হন সাবদুল।
পরে তার পরিবারের লোকজন তাকে উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওইদিন রাত সাড়ে ৯ টার দিকে আবারো উসমান, অপু মিয়া (২৪), লিটন মিয়া (৫৫), মনির (২৩) ও ফজলসহ (৫৫) ৭-৮ জন তাদের বাড়িতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এ সময় বাড়ির মালামাল ও গরু-ছাগল লুটপাট করা হয়। ভাঙচুর করা হয় ঘরের জানালা-দরজা। বাড়ির লোকজন বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হন গৃহবধূ শাহানা বেগম, তার স্বামী আব্দুল বারিক, ভাসুর আব্দুল হালিম টুরু, দেবর তারেক মিয়ার স্ত্রী জোলেখা বেগম, শ্বশুর সাবদুল ও শাশুড়ি তামশা বেগম।
এদের মধ্যে আব্দুল হালিম টুরুর অবস্থার অবনতি হলে শনিবার বিকালে তাকে জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ব্যাপারে আহত গৃহবধূর দেবর তারেক মিয়া বাদী হয়ে উসমানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি বলেন, এ ঘটনার পর থেকে আমরা তাদের হুমকি-ধামকিতে বাড়িতে যেতে পারছি না। ৪টি পরিবারের সবাইকে মেরে বাড়ির সব মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা এর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে উসমানের চাচা ফজল মিয়া হামলার কথা স্বীকার করলেও লুটপাটের কথা অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আপস মিমাংসার কথা হচ্ছে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এসআই নাজমুল বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ জন্য রেফার করা হয়েছে। শাহানা বেগমের মাথার আঘাতও গুরুতর। তার চিকিৎসা চলছে। আহতদের মধ্যে ৫ জন শ্রীবরদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.