চুক্তি নবায়ন হচ্ছে কেপিসিএল-সামিটসহ ১০ বিদ্যুৎ কোম্পানী

চুক্তি নবায়ন করা হচ্ছে কেপিসিএল-সামিটসহ সরকারি বেসরকারি ১০টি বিদ্যুৎ কোম্পানীর। তবে এই ক্ষেত্রে এসব কোম্পানীগুলো আগের মতো বন্ধ থাকলেও আর ক্যাপাসিটি চার্জ পাবে না। সরকার তার প্রয়োজন অনুযায়ী এসব কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করবে। এসব শর্ত সাপেক্ষে কেপিসিএল, সামিটসহ যে সব কোম্পানীগুলো শেয়ার বাজারে তালিকা ভুক্ত এবং যে সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেশিনগুলো ভাল সেগুলোর চুক্তি নবায়ন করার চিন্তা ভাবনা করছে।

জানাগেছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠান খুলনা পাওয়ার কোম্পানির দু’টি পাওয়ার প্লান্টের বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের মে মাসে শেষ হচ্ছে। এসব কোম্পানি শেয়ার বিক্রি করে ব্যক্তি শ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কিন্তু বিনিয়োগের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিগুলো যে লভ্যাংশ দিয়েছে, তা থেকে বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাননি বিনিয়োগকারীরা। এজন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির চুক্তির মেয়াদ নবায়নের জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো চিঠিতে এ অনুরোধ করা হয়। বিএসইসি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে কমিশন। উৎপাদনের যথেষ্ট সক্ষমতা থাকার পরেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পিপিএ মেয়াদ না বাড়ালে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বিনিয়োগকারীরা। এ বিবেচনা থেকেই বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়, আগামী মে মাসে খুলনা পাওয়ারের মালিকানাধীন দুই কোম্পানির সঙ্গে সরকারের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) শেষ হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য বিষয়টি উদ্বেগের। সূত্র জানায়, ১৫ এপ্রিল বিএসইসির পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো চিঠিতে বিদ্যুৎ খাতের সরকারি দুই কোম্পানি ডেসকো ও পাওয়ার গ্রিডসহ তালিকাভুক্ত ১০ বিদ্যুৎ কোম্পানির

নাম উল্লেখ করে কোনটিতে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের কত বিনিয়োগ রয়েছে, তা উল্লেখ করে। চিঠিতে উল্লেখ করা বেসরকারি আট বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো হলো- বারাকা পাওয়ার, ডরিন পাওয়ার, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার, জিবিবি পাওয়ার, খুলনা পাওয়ার, শাহজিবাজার পাওয়ার, সামিট পাওয়ার ও ইউনাইটেড পাওয়ার।

কমিশন চিঠিতে জানিয়েছে, কোম্পানিগুলোর মধ্যে খুলনা পাওয়ারের মালিকানাধীন খুলনা পাওয়ার ইউনিট-২-এর পিপিএ মেয়াদ আগামী ৩১ মে এবং খানজাহান আলী পাওয়ারের পিপিএ মেয়াদ আগামী ২৮ মে শেষ হতে যাচ্ছে। এসব কোম্পানি শেয়ার বিক্রি করে ব্যক্তি শ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কিন্তু বিনিয়োগের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিগুলো যে লভ্যাংশ দিয়েছে, তা থেকে বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাননি বিনিয়োগকারীরা। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, খুলনা পাওয়ারের মালিকানাধীন দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র ফার্নেস অয়েলভিত্তিক। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ফার্নেস অয়েলের দর নিš§মুখী হওয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন খরচ অনেক কম।

ফলে এ দুই কোম্পানির কাছ থেকে সরকার এখন কম মূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে পারবে। তা ছাড়া খুলনা পাওয়ারের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যবহূত হচ্ছে। অর্থাৎ এর ক্ষমতার ৭০ শতাংশ অব্যবহত থাকছে, যা আগামী ২০ বছর উৎপাদন বজায় রাখার সক্ষমতা রাখে।

এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে খুলনা পাওয়ারসহ তালিকাভুক্ত অন্যান্য বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারের সম্পাদিত ক্রয় চুক্তি নবায়ন করার সুযোগ আছে কিনা, তা জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.