বাজারে এলো বাংলাদেশে তৈরি নোকিয়া’র জি-সিরিজের স্মার্ট ফোন

ঢাকা, নভেম্বর ২৫, ২০২১: বহুল প্রতীক্ষিত নোকিয়া মোবাইলে র্জি’ সিরিজের দুটি মডেল জি-১০ ও জি-২০ বাংলাদেশের বাজারে আনার ঘোষণা করল এইচএমডি গ্লোবাল বাংলাদেশ। এই দুইটি সেট-ই বাংলাদেশে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি-র একটি কারখানায় তৈরি করা ।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক কোম্পানি ভাইব্রেন্ট সফটওয়্যার ও ইউনিয়ন গ্রুপ বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ে গঠিত ‘ভাইব্রেন্ট সফটওয়্যার (বাংলাদেশ) লিমিটেড’, বিশ্বখ্যাত নোকিয়া ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন বাংলাদেশে তৈরির জন্য প্রথম কারখানাটি স্থাপন করেছে। দেশের মাটিতে তৈরি মোবাইল ফোন দিয়ে ব্যাবহারকারিদের মন জয় করতে উন্নত প্রযুক্তির এই দুটি সেট বাজারে আনল কোম্পানিটি।

আজ রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য ’বাংলাদেশে তৈরি’ নোকিয়া ফোনের যাত্রা শুরুর ঘোষনা দেয়া হয়। এইচএমডি গ্লোবাল-এর জেনারেল ম্যানেজার (প্যান এশিয়া) রাভিকুন ওয়ার বলেন, ‘আজকে আমাদের জন্য স্বরনীয় একটি দিন। নি:সন্দেহে বিগত এক বছর ছিল আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং, তবে এ সময় আমাদের চিন্তাভাবনা করে প্রস্তুত হয়ে পরবর্তী বড় পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন ও সেখানে সংযোজিত হ্যান্ডসেট-এর উন্মোচন আমাদের যাত্রার একটি মাইলফলক’।

ফোন: নোকিয়া জি-সিরিজ: জি-সিরিজের ফোনগুলির ফিচার এতো নিখুঁত ভাবে সমন্বয় করা যে, ফোন গুলো সমস্যা সমাধানের প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করে। জি-১০ এবং জি-২০ উভয় ফোনই তিন দিনের ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম, যা এ যাবৎ পর্যন্ত নোকিয়া স্মার্টফোনে সর্বোচ্চ। নোকিয়ার জি-২০ সেট-টি নোকিয়া স্মার্টফোনের সিগ্নেচার ‘অ্যান্ড্রয়েড প্রতিশ্রুতি’ দ্বারা সমর্থিত, যা একজন ব্যাবহারকারির ডেটা যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখতে তিন বছর পর্যন্ত মাসিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দুইবছর পর্যন্ত অপারেটিং সিস্টেম হালনাগাদ করন করে বা আপডেট করে ।

আঙ্গুলের ছাপ ও ব্যবহারকারির ফেইস রিকগনিশনের মাধ্যমে ফোন আনলকের অপশন থাকছে এ দুটি মডেলে। দীর্ঘায়ুর এই দুটি ফোনেরই রয়েছে আকর্ষণীয় ৬.৫ ইঞ্চি টিয়ারড্রপ ডিসপ্লে । বেশি আলোতে দেখার জন্য আছে উজ্জলতা বাড়ানোর ব্যবস্থা।

স্বরনীয় মূহুর্তগুলো ধরে রাখতে চারটি ব্যাক ক্যামেরা সম্বলিত জি-২০ ফোনে আছে পর্যাপ্ত স্টোরেজ ও জোসারাউন্ড অডিওসহ আকর্ষণীয় ৪৮ মেগাপিক্সেলের ওয়াইড এঙ্গেল ব্যাক ক্যামেরা।

নোকিয়া জি-১০ মোবাইলে আছে ত্রিপলরিয়ার ক্যামেরা আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্বা সম্বলিত শুটিং মোড, যার মাধ্যমে কম আলোতেও অত্যন্ত ভালো ছবি তোলা সম্ভব।  তাই প্রতিটি মুহূর্তই পুরোপুরি নির্ভুল ভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব।

বাংলাদেশে কারখানা: গাজীপুরের হাইটেক সিটি-র ব্লক ৫-এ নোকিয়া ফোনের কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিতে গড়া কারখানাটি প্রশস্ত এবং দ্বিতল বিশিষ্ট। একাধীক যাচাই ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পন্যের সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা হয়। সর্বোচ্চ মানের পন্য নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি ফোনকে স্বয়ংক্রিয় ও মানুষের দ্বারা পরিচালিত দুইভাবে গুনগত মানের পরীক্ষায় পার হয়ে আসতে হয়।

ইউনিয়ন গ্রুপের ডিরেক্টর আলভী রানা বলেন, ’নোকিয়ার মতো গ্লোবাল একটি ব্র্যান্ডের অংশীদার হওয়া আমাদের জন্য খুবই সম্মান জনক। এইচএমডি গ্লোবালের নির্দেশনায় ইউরোপীয় মানে আমরা কারখানা স্থাপন করেছি। নিশ্চিত ভাবেই বাংলাদেশে তৈরি হ্যান্ডসেট ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে পাবে এবং এদেশের স্মার্টফোন মার্কেটে নোকিয়ার মার্কেট শেয়ার বাড়াতে সাহায্য করবে।’

শুরুতে কারখানায় প্রতিদিন ৩০০ ফোন সংযোজন করা হবে। ২টি মোড়ক জাতকরণ ও ৪ টি সংযোজনসহ মোট ৬ টি প্রোডাকশন লাইন আছে কারখানাটিতে। নিজস্ব পরীক্ষাগার সম্বলিত কারখানাটি প্রয়োজনীয় সকল অবকাঠামোতে স্বয়ংস্বম্পূর্ন এবং কারখানাটিতে প্রায় ২০০ জন কর্মী রয়েছে।

স্থানীয় ভাবে তৈরি করা নোকিয়া স্মার্টফোন আমদানিকৃত ফোনের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম দামে পাওয়া যাবে।

নোকিয়া জি-১০ এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩,৪৯৯ টাকা এবং জি-২০ ১৪,৯৯৯ টাকা।

আরও তথ্যর জন্য ভিজিট করতে পারেন নিচের লিঙ্কটিতে,

https://www.nokia.com/phones/en_int/nokia-g-20 and https://www.nokia.com/phones/en_int/nokia-g-10

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.