মাঝ আকাশে বিমান থাকার সময় সেখানে কোনো শিশুর জন্ম হলে কী হয়?
পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে, আর কতটাই বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় সেই বিষয়টি জানা প্রয়োজন।
এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার সময় প্লেনের মধ্যে মাঝ আকাশে জন্মানো নবজাত শিশুটি কোন দেশের নাগরিক হবে?
এটি এমন একটি প্রশ্ন যা আমাদের কৌতূহল বাড়ায়। সন্তানের জন্মস্থান কোথায়?
সঠিক করে বলাই দুষ্কর।
এই ক্ষেত্রে শিশুটির নাগরিকত্ব কোন দেশের হবে?
এয়ারলাইনগুলো সাধারণত নবজাতকের জন্মের পর নানাবিধ সুবিধা প্রদান করে এবং শিশুটির জন্ম মুহূর্তটিকে আড়ম্বরের সাথে উদযাপন করে।
বিমান সংস্থাগুলো আপাতভাবে সদ্যজাতর নাগরিকত্বের বিষয়েও বিভ্রান্ত হয়।
যদিও কিন্তু কিছু নিয়ম বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সমাধান করে।
মাঝ আকাশে জন্ম হলে, জন্মের সময় ফ্লাইটটি যে দেশের আকাশসীমা বা পিতামাতার জাতীয়তার কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় শিশুটির নাগরিকত্ব সম্পর্কে।
যদি এই উভয় কারণই শিশুটির নাগরিকত্বের বিষয়টি সম্পর্কে সমাধান না করে, তখন বিমানটি যে দেশে নিবন্ধিত হয়েছে তা পরীক্ষা করার পরে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয় সংশ্লিষ্ট শিশুর।
মধ্য আকাশে জন্ম নেয়া শিশুটির আজীবন বিনামূল্যে আকাশ ভ্রমণ করার স্বীকৃতি দেয় বিমান সংস্থাগুলো।
মাঝ আকাশে শিশুর জন্ম হওয়া নিয়ে বিমানকর্মীরা যেভাবে আনন্দ করেন, তার ছবি ও ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় হামেশাই ভাইরাল হয়।
এমন ঘটনা নিয়ে বিমান সংস্থা, কর্মী এবং চিকিৎসকদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলেই। বিমানে যে এক শিশুর জন্ম হয়েছে, সেই খবর আগেই পৌঁছে যায় সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরে।
ফলে সেখানে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেন কর্মীরা।
করতালি আর মুহুর্মুহু ক্যামেরার ফ্ল্যাশের মধ্যে হুইল চেয়ারে বসা মায়ের কোলে শুয়ে মাটিতে নেমে আসে আকাশে জন্ম নেয়া শিশু।
তবে এই ঘটনা নতুন নয়।
২০১৭ সালে সৌদি আরব থেকে ভারতে আসার একটি বিমানে এক নারী কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন।
জেট এয়ারওয়েজ তার সারাজীবনের বিমানের টিকিটের দায়িত্ব নিয়েছিল।
এমন ঘটনা আরো আছে। ২০০৯ সালে এয়ার এশিয়া একজন মালয়েশিয়ান মা ও তার ছেলেকে গোটা জীবনের বিমানের টিকিট উপহার দিয়েছিল।
একটি ফিলিপাইনের এয়ারলাইন সংস্থা বিমানে জন্মানো শিশু কন্যাকে বিনামূল্যে ১ মিলিয়ন এয়ার মাইল ভ্রমণের উপহার দিয়েছিল।
