প্রতিবাদ করায় নির্যাতনের সিকার

ডাকাতের কবলে পড়া কুষ্টিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জগামী ঈগল পরিবহণ বাসের যাত্রীদের মধ্যে ১০ থেকে ১২ জন ছিলেন নারী, বাকিরা সবাই পুরুষ। এদের মধ্যে কেউ-ই সাহস করে এগিয়ে আসেননি।

একমাত্র প্রতিবাদী ছিলেন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ওই নারী। বাসের অন্য যাত্রীরা বলেন, সবাই প্রতিবাদ করলে হয়তো ওই নারীর এমন অবস্থা হতো না।

বাসের পেছনের দিক থেকে তিন সিট সামনে বসে ছিলেন জেসমিন আরা ও তার স্বামী। তার থেকে দুই হাত দূরে এক নারীকে তল্লাশি করার সময় ওই নারী প্রতিবাদ করেন। ওই নারী ডাকাত দলকে বলেন, ‘তোরা যে কাজ করছিস, সেটা ঠিক নয়।

আমার এলাকা হলে তোদের দেখে নিতাম।’ এ কথা শোনার পর দুই তরুণ ওই নারীকে মারধর করে, শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। এ সময় ওই নারীকে পাঁচ-ছয়জন মিলে ধর্ষণ করে।

ভুক্তভোগী নারী একটি পরিবহণের বাসের এক সুপারভাইজারের সাবেক স্ত্রী। ঈগল পরিবহণের মালিক পাবনার পরিবহণ ব্যবসায়ী সোলায়মান হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ওই সুপারভাইজার পাবনা সদরের বাসিন্দা।

কিছু দিন আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়েছে। মেয়েটি এখন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। বাসে ডাকাতিকালে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়।

বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। তারা মেয়েকে ঢাকায় যেতে বারণ করেছিলেন। কিন্তু মেয়ের এক কথা, ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করবেন।

মেয়েটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মঙ্গলবার রাতে অনেকটা জোর করেই তার মেয়ে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। ঢাকায় যাওয়ার জন্য বারণ করেছিলেন তিনি। বাবা বলেন, সন্ধ্যায় আমি তখন খাচ্ছিলাম।

মেয়ে ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যায়। আমিও নিষেধ করেছিলাম, কথা শোনেনি। মেয়েটির চাচাতো বোন বলেন, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে একবার ফোনে কথা হয়েছিল। বলেছে সে তখন পাবনায়। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। কোনো ফোন দেয়নি।

পাবনার ব্যবসায়ী সোলায়মান হক বলেন, তার পাঁচটি বাসের মধ্যে কুষ্টিয়া থেকে একটি বাস নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করে। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও বাসটি নারায়ণগঞ্জ যাচ্ছিল।

বাসটির চালক ছিলেন পাবনা জেলা সদরের বেড়াকপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম। সুপারভাইজার ছিলেন পাবনা জেলা সদরের রাধানগর মহল্লার রাব্বী হোসেন ও হেলপার একই উপজেলার টেবুনিয়া এলাকার দুলাল হোসেন।

সোলায়মান হক দাবি করেন, তার বাসে থাকা ওই তিন কর্মী দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত। তাদের বিরুদ্ধে কোনো দিন কোনো অপকর্মের অভিযোগ তিনি পাননি। তিনি স্বীকার করেন, বাসে সিট খালি থাকলে মাঝেমধ্যেই রাস্তা থেকে যাত্রী তোলা হতো। একইভাবে ঘটনার দিনও কয়েকজন যাত্রী তোলা হয়েছিল।

সোলায়মান হক আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যেই পুলিশ রাজা মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। ডাকাত দল বাসটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর এই রাজা মিয়াই বাসটি চালাচ্ছিল বলে তিনি অবগত হয়েছেন।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই পুরো ডাকাত দলকে খুঁজে পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করছেন। বিপ্লব হোসেন নামের এক যাত্রী ঈগল পরিবহণের ওই বাসটিতে দৌলতপুর উপজেলার ডাংমড়কা কাউন্টার থেকে উঠেছিলেন।

তিনি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বলেন, প্রাগপুর কাউন্টার থেকে ছেড়ে আসার পর ডাংমড়কা কাউন্টার থেকে তিনিসহ কয়েকজন যাত্রী ওঠেন।

এরপর যথাক্রমে মথুরাপুর, হোসেনাবাদ, তারাগুনিয়া কাউন্টার থেকে যাত্রী তুলে ভেড়ামারা উপজেলায় প্রবেশ করে বাসটি। এরপর লালন শাহ সেতু পার হয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে ঢোকে।

ঈশ্বরদী পর্যন্ত পরিবহণটির সব কাউন্টার মিলিয়ে ২৬ জন যাত্রী ওঠেন। এরপর যেসব যাত্রী ওঠেন, সবাইকে রাস্তা থেকে তোলা হয়।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.