২ ঘণ্টায় ১৬ বার অবতরণে ব্যর্থ ১১ বিমান

দু’ঘণ্টা, ১১ টি বিমান, ১৬ বার ব্যর্থ চেষ্টা –  শুক্রবার জোরদার উল্লম্ব হাওয়ার কারণে এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কলকাতা বিমানবন্দরে। দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রবল হাওয়ার কারণে একাধিকবার বিমানের ভারসাম্য বজায় রাখা যায়নি। সেই পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে অবতরণ না করে বিমানের মুখ ঘুরিয়ে নেন পাইলটরা।

বঙ্গোপসাগরে জন্ম নেওয়া নিম্নচাপের জেরে শুক্রবার কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাংশে ঝোড়ো হাওয়া দিচ্ছিল। ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, সেই ঝোড়ো হাওয়ার জেরে বিমান অবতরণের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েন পাইলটরা। বিমানের গতিপথের সঙ্গে উল্লম্বভাবে হাওয়া বইতে থাকায় শুক্রবার বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা ছ’টা ৩০ মিনিট এবং রাত আটটার পর কিছুক্ষণ কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণের কাজটা মারাত্মক কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ২৪ টির বেশি বিমান আকাশে চক্কর কাটতে থাকে। কয়েকটি বিমান অন্যত্র ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।

এমনিতে চৈত্রের শেষ থেকে বৈশাখ পর্যন্ত কালবৈশাখীর সময় এরকম দমকা হাওয়া বইতে থাকে। তার জেরে বিমান অবতরণের ঝুঁকি নেন না পাইলটরা। আকাশে কিছুক্ষণ চক্কর কাটেন। তারপর এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সবুজ সংকত পেলে কলকাতায় অবতরণ করেন। তাহলে শুক্রবার কেন এত সমস্যা হল?

ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকক্ষণ ছিল। প্রায় দু’ঘণ্টা প্রবল বেগে হাওয়া বইছিল। যা কালবৈশাখীর সময় মেরেকেটে ২০ মিনিট হয়। সেটাই যাবতীয় পার্থক্য গড়ে দিয়েছিল। সেজন্যই একাধিকবার অবতরণের চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি পাইলটরা। ভিস্তারার একটি বিমান তো প্রায় রানওয়ে ছুঁয়ে ফেলেছিল। কিন্তু হাওয়ার কারণে রানওয়ে না ছুঁয়ে ফের উড়ে যায় বলে ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রবিবার ইন্ডিগোর বিমানের ভুয়ো ফায়ার অ্যালার্ম

কলকাতায় অবতরণের আগে ‘ফায়ার অ্যালার্ম’ বেজে উঠেছিল। তার জেরে রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল ইন্ডিগোর একটি বিমানে। জরুরি ভিত্তিতে বিমানটি কলকাতায় অবতরণ করে। যদিও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উড়ান সংস্থার তরফে দাবি করা হয়, বিমানে আগুন লাগেনি। ভুয়ো ‘ফায়ার অ্যালার্ম’ বেজেছিল।
রবিবার কলকাতায় অবতরণের আগে দিল্লি থেকে আগত ইন্ডিগোর ৬ই-২৫১৩ (ভিটি-আইজেএ) বিমানের মালপত্র রাখায় জায়গা থেকে ‘ফায়ার অ্যালার্ম’ বেজে ওঠে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অবতরণের জন্য এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলকে (এটিসি) আর্জি জানান পাইলট। বিমানের ভিতরে ‘মে ডে’ (জীবন ঝুঁকির মধ্যে আছে, এমনই জরুরি বার্তা) ঘোষণা করা হয়। তারপর ১৬৫ জন যাত্রী নিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানটি। সকল যাত্রীই সুরক্ষিত আছেন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.