শত শত প্রবাসীর ঠাঁই হয় গাছ তলায় বিমানবন্দরে

প্রবাসী শ্রমিকদের আত্মীয়-স্বজনদেরও যেন ভোগান্তির শেষ নেই। প্রিয়জনকে বিদায় বা বরণ করতে এসে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কখনও রোদে পুড়তে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজতে হয় তাদের। টার্মিনাল ভবনের আশপাশে নেই কোনো ওয়েটিং রুম। বিষয়টি নজরে আনলে বিমান প্রতিমন্ত্রী জানান, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে কাজ শুরু করছে।

প্রচণ্ড দাবদাহ, রাত জাগা ক্লান্ত শরীর। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে বটবৃক্ষের একটুখানি ছায়াই যেন বিশাল পাওয়া এই প্রবাসী শ্রমজীবীদের কাছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই দৃশ্য নিত্যদিনের। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ফ্লাইট ধরতে আসা শত শত প্রবাসীর ঠাঁই হয় গাছের তলায়।

গাছ তলায় ঠাঁই নেওয়া মানুষগুলোর কেউ বিদেশ যাবেন, কেউবা বিদেশ থেকে ফিরেছেন। সঙ্গে নিকটজনরা। প্রিয়জনকে বরণ বা বিদায় জানানো এখন রীতিতে পরিণত হয়েছে।

এক যাত্রী বলেন, ফ্লাইট হলো ৭টায়। ৪টায় ভেতরে প্রবেশ করতে দেবে। আমরা অনেক দূর থেকে একটু আগেই চলে আসছি। ঢাকা শহরে িঅনেক যানজট।

আরেক যাত্রী বলেন, ইমিগ্রেশনে যাব আমি ৪টা বাজে। আমি আসছি দূর থেকে। এখন আমাকে ওয়েট করতে হবে। কিন্তু আমি যে অপেক্ষা করব সে রকম একটা জায়গা নেই। গাছের নিচে বসে আছি, এখন বৃষ্টি আসলে আমাকে ভিজতে হবে।

রাজধানীর যানজট কিংবা রাস্তার ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই আগেভাগেই পৌঁছে যান। সঙ্গে থাকা লাগেজ থাকায় কোথায় যাওয়ারও উপায় থাকে না। অথচ তাদের জন্য নেই কোনো ওয়েটিং রুম।

বিমানবন্দরে যাত্রীর স্বজনদের জন্য ওয়টিং রুম তৈরি এখন সময়ে দাবি বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, যাত্রীদের সঙ্গে যারা আসেন, তাদের ব্যবস্থাপনা সত্যিই কঠিন কাজ। আমাদের এখানে অবকাঠামো সেভাবে তৈরি করা হয়নি।

তৃতীয় টার্মিনাল ভাবন নির্মাণ শেষ হলে স্বজনদের এই ভোগান্তি দূর হবে বলে আশা কর্তৃপক্ষের।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন বলেন, যতভাবে তাদের সহায়তা দরকার, তা আমরা করব। কারণ আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা দেশের বাইরে গিয়ে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আনছেন। এই টার্মিনাল ভবনটি যখন হয়ে যাবে, তখন আশা করি কোনো সমস্যা থাকবে না।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্বেও বাইরে থেকে যারা আসেন, তারা যেন বসতে পারে। তারা যেন চা খেতে পারেন, সে ব্যবস্থা যেন থাকে সেই নির্দেশনা দিয়েছি। ইতোমধ্যে কিছু ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

দ্রুতই এই সমস্যার সমাধাণে কী করে করা যায়, তা নিয়েও কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.