ইউক্রেনকে ৩২১টি ট্যাঙ্কের প্রতিশ্রুতি দিল!

ফ্রান্সে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ভাদিম ওমেলশেঙ্কো শুক্রবার বলেছেন, পশ্চিমা মিত্ররা ইউক্রেনকে ৩২১টি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ফ্রান্স টিভি বিএফএমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পশ্চিমা বেশ কয়েকটি দেশ ৩২১টি ট্যাংক দেওয়ার চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছে।’ ইয়ন

তিনি বলেন, ‘সরবরাহের শর্তাবলী ভিন্ন ভিন্ন। তাদের এই সহায়তা আমাদের দ্রুতই প্রয়োজন।’ তবে কোন দেশ কতগুলো ট্যাংক দেবে, এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

সিএনএন নিউজের খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ৩১টি এম-১ আব্রামস ও জার্মানি ১৪টি লিওপার্ড-২ এ৬এস মডেলের ট্যাংক ইউক্রেনকে দেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এ ঘোষণার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে ট্যাংক পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেন ইউক্রেনের এই কূটনীতিবিদ।

সাক্ষাৎকারে ভাদিম ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আহ্বানের প্রতিধ্বনি করে আরও বেশি বেশি এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদেশি সামরিক সহায়তা কামনা করেন। যাতে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া যায়। তিনি বলেন, ‘যদি এই সহায়তা দিতে দিতে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লেগে যায় তবে তা অনেক দেরি হয়ে যাবে।’

দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা মিত্রদের কাছে অত্যাধুনিক ট্যাংক চেয়ে আসছিলেন জেলেনস্কি। কয়েক সপ্তাহের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত বুধবার জার্মানি জানায়, তারা ইউক্রেনকে ১৪টি লিওপার্ড-২ ট্যাংক দেবে। একই দিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে ৩১টি আব্রামস ট্যাংক দেবে বলেও জানায়। এর আগে দেশটিকে ১৪টি চ্যালেঞ্জার-২ ট্যাংক দেয়ার ঘোষণা দেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক।

ইউক্রেনে পশ্চিমা মিত্রদের ট্যাংক পাঠানো দেখে উত্তর কোরিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটি বলেছে, পশ্চিমারা নিজেদের মাহাত্ম্য জাহিরের জন্য প্রক্সি যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে রেড-লাইন ক্রস করছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জন উনের বোন কিম ইয়ো জং এজন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অভিযুক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, রাশিয়া যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, উত্তর কোরিয়াও সেভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।

কিম ইয়ো জন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে যুদ্ধকে ছড়িয়ে দিচ্ছে, তাতে আমি উদ্বিগ্ন।’

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদলু এজেন্সি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোরান মিলানোভিচ বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব সরবরাহ করা এসব ট্যাংক কেবল ইউক্রেন যুদ্ধকে প্রলম্বিতই করবে, আর কিছু দেবে না। মিলানোভিচ বলেন, ‘এটি কেবল যুদ্ধকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যদি রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে একমত হতে না পারে তবে যুদ্ধ কোনোভাবেই শেষ হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো এই ঘটনায় কখনোই অংশগ্রহণ করবে না।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে মিলানোভিচ বলেন, ‘কারো কারো মতে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। তবে এই বিষয়টিকে আাম একপাশে সরিয়ে রাখতে চাই। তবে আপাতত ট্যাংকের বিয়ষটি নিয়ে বলতে গেলে বলতে হয়, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের ট্যাংকই যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে রাখতে ভালোভাবেই সক্ষম।’

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.