লোকসানে বেসরকারি বিমান সংস্থা

sdসরকারের অসহযোগিতা ও নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে গত ২০ বছরে দেশের সাতটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স বন্ধ হয়েছে৷ চালু আছে মাত্র তিনটি৷ অব্যাহত লোকসানের কারণে এ তিনটি এয়ারলাইন্সও যেকোন সময় বন্ধ হয়ে হবে বলে আশংকা করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের অসহযোগিতা, অপরিকল্পিত রুট বিন্যাস, এভিয়েশন ব্যবসা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাবেই এমনটি হয়েছে। জানা গেছে, দেশে প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইন্সের অনুমতি দেয়া হয় ১৯৯৬ সালে৷ ওই বছর ‘অ্যারো বেঙ্গল এয়ারলাইন্স` দু`টি উড়ো জাহাজ দিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে পথচলা শুরু করে৷ কিন্তু দু’বছরের মাথায় সংকটে পড়ে ব্যবসা গোটাতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি৷

এরপর ১৯৯৭ সালে ‘এয়ার পারাবাত’ যাত্রা শুরু করে পাঁচ বছরের মাথায় বন্ধ হয়ে যায়৷ আর ১৯৯৯ সালে ‘বেস্ট এভিয়েশন’ চালু হয়ে তিন বছর পর গুটিয়ে যায়। ২০০৫ সালে চালু হয় ‘এয়ার বাংলাদেশ’ এবং ২০০৭ সালে চালু হয় ‘রয়েল বেঙ্গল এয়ারলাইন্স’। অব্যাহত লোকসানের কারণে এই দু`টি এয়ারলাইন্সও বন্ধ হয়ে গেছে৷ ২০১২ সালের ৩০ মার্চ বন্ধ হয় ‘জিএমজি এয়ারলাইন্স’। এটি যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৯৮ সালে৷ মূলত জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণেই তারা উড়োজাহাজ চলাচল স্থগিত রেখে নতুন ব্যবসায়িক কৌশল নির্ধারণ করছে৷ সর্বশেষ অনিয়ম লোকসান দুর্নীতি ও পাহাড়সম অভিযোগ নিয়ে ২০০৭ সাল থেকে অপারেশনে থাকা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বন্ধ হয়ে যায়।

ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সটির বিরুদ্ধে পুঁজিবাজারে দেউলিয়া ছাড়াও সিভিল এভিয়েশনের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে উল্টো সংস্থাটির বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসবিরুলের বিরুদ্ধে। অবশ্য সিভিল এভিয়েশনও চেক জালিয়াতির মামলা করেছে তাসবিরুলের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে এভিয়েশন গবেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, এ পরিস্থিতির জন্য সরকারের পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোর অদক্ষতাও দায়ী৷ কেননা এয়ারলাইনগুলো একই উড়োজাহাজ দিয়ে ছোট বড় সব রুট চালানোর কারণে খরচ বেড়েছে৷ এছাড়া কয়েক বছর আগে জ্বালানির দাম বাড়ায় তা ছিল তাদের ওপর বাড়তি চাপ৷ যে চাপ তারা সহ্য করতে পারেনি৷

তিনি আরো বলেন, সবচে দুঃখজনক হচ্ছে অশুভ প্রতিযোগিতা। বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো যখন কোন রুটের ভাড়া ৩ হাজার টাকা ঘোষণা করে তখন বাংলাদেশ বিমান আরো কমে অফার দেয়। পরে অন্য এয়ারলাইন্স একই রুটে আরো কমে অফার দিযে ব্যবসার পরিবেশ নষ্ট করে। এতে সামগ্রিকভাবে ইন্ডাস্ট্রি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যে কারণে এয়ারলাইন্সগুলো লোকসানের কবেলে পড়ে। বন্ধ হওয়া এয়ারলাইন্সগুলোর ক্ষেত্রে অনেকটা তাই ঘটেছে।

দেশে এখন মাত্র তিনটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স সচল আছে৷ ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার এবং রিজেন্ট এয়ারওয়েজ।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকার চাইলে কিছু চার্জ ও ফি কমিয়ে দিতে পারে৷ উড়োজাহাজ আনার ক্ষেত্রে ট্যাক্সও কমিয়ে দিতে পারে। জ্বালানির ক্ষেত্রেও দিতে পারে ভর্ভুকি। এতে এয়ারলাইন্স ব্যবসা সামগ্রিকভাবে লাভবান হবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.