সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশির মরদেহ ফিরল দেশে
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে মরদেহটি বহনকারী বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় প্রাণ হারানো এই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরার খবরে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা ১২ মিনিটে মরদেহ বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এর আগে, ২২ অক্টোবর সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে। পরবর্তী সময়ে ফ্লাইটটি ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিমান পৌঁছানোর সময় সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
নিহত মো. শাহেদ আহম্মেদ বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন তিনি। গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোট ১২ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের একজন শাহেদ আহম্মেদ। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জীবিকার সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রাণ হারানো বাংলাদেশি প্রবাসীদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও তথ্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানান, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নিহত ১১ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
প্রবাসীদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদেশের মাটিতে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁদের নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা এবং মৃত্যুর পর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার সুযোগ পেলেন। তবে তাঁর মৃত্যু আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব কতটা গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জীবন ও তাঁদের পরিবারের ওপর।