নতুন রুটে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনায় শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস

শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী করতে অস্ট্রেলিয়ার পার্থ, চীন ও আফ্রিকার বিভিন্ন গন্তব্যে নতুন ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস।

শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী করতে অস্ট্রেলিয়ার পার্থ, চীন ও আফ্রিকার বিভিন্ন গন্তব্যে নতুন ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস। নতুন রুট চালুর সম্ভাবনা যাচাই করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা আফ্রিকার কয়েকটি গন্তব্যে পুনরায় বিমান চলাচল শুরুর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভিপুল মিশ্রা সম্প্রতি গণমাধ্যমকে এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর মতে, দেশের পর্যটন খাতের বিকাশে আন্তর্জাতিক আকাশপথে যোগাযোগ বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে পর্যটক আকর্ষণ এবং কলম্বোকে আন্তর্জাতিক ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।

ভিপুল মিশ্রা জানান, শ্রীলঙ্কার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত সাম্প্রতিক একটি পর্যটন প্রচার কার্যক্রমে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে বিমান চলাচলের চাহিদার বিষয়টি উঠে এসেছে। সেখানে পর্যটকদের আগ্রহ বিবেচনায় নিয়ে নতুন রুট চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পার্থগামী ফ্লাইটের জন্য উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ পুনরায় জোরদার করাও জরুরি। এসব গন্তব্যে প্রয়োজনীয় ফ্লাইট পরিচালনার জন্য উড়োজাহাজের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চীনের বাজার শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বাড়ানো গেলে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, আফ্রিকার বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পুনরায় চালু হলে শ্রীলঙ্কার আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হবে।

তবে এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন ভিপুল মিশ্রা। বিশেষ করে আফ্রিকার রুটগুলোতে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করতে হলে বাইরে থেকে উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা হিসেবে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের দায়িত্ব শুধু লাভজনক রুট পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যেসব নতুন রুটে শুরুতে বাণিজ্যিক ঝুঁকি বেশি থাকে, সেসব রুট চালুর উদ্যোগও নিতে হবে। কারণ, বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো সাধারণত যেসব রুটে শুরুতেই পর্যাপ্ত যাত্রী বা মুনাফার নিশ্চয়তা থাকে না, সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হয় না।

ভিপুল মিশ্রার মতে, নতুন রুট চালুর প্রথম দিকে যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলক কম থাকতে পারে। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচালন ব্যয় বহন করতে হয় বিমান সংস্থাকেই। তবে রুটটি প্রতিষ্ঠিত হলে এবং পর্যাপ্ত চাহিদা তৈরি হলে অন্য বিমান সংস্থাও সেখানে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।

শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশটির পর্যটন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং কলম্বোভিত্তিক ট্রানজিট কার্যক্রম সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর সময়সূচি ও উড়োজাহাজ সংগ্রহের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.