ডিসেম্বরেও পুরোপুরি চালু হচ্ছে না শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল আগামী ডিসেম্বরেও পুরোপুরি চালু হচ্ছে না।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল আগামী ডিসেম্বরেও পুরোপুরি চালু হচ্ছে না। তবে অপারেটর নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তি এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা গেলে ডিসেম্বর থেকেই সীমিত পরিসরে টার্মিনালটির আংশিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

সোমবার (২০ জুলাই) বেবিচকের কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘সিভিল অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড এয়ার ট্রাফিক অপারেশন’ শীর্ষক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন এই টার্মিনালকে দেশের বিমান পরিবহন খাতের অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি চালু হলে যাত্রীসেবা, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, ইমিগ্রেশন এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে ডিসেম্বর মাস থেকেই টার্মিনালটির কার্যক্রম চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেই টার্মিনাল চালু করা সম্ভব নয়; পরিচালনার জন্য দক্ষ অপারেটর নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করাও জরুরি।

তিনি বলেন, টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার কথা থাকা জাপানি কোম্পানিগুলোর কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সরকারের একাধিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। তবে এখনো তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ওপরই মূলত টার্মিনাল চালুর সময়সূচি অনেকাংশে নির্ভর করছে।

মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক আশা প্রকাশ করেন, আগামী আগস্টের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে অপারেটর নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় জনবল প্রশিক্ষণ, অপারেশনাল পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হবে। এসব কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে ডিসেম্বর থেকেই সীমিত আকারে টার্মিনালটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

তবে পুরো টার্মিনাল একযোগে চালু করতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বেবিচক চেয়ারম্যান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতেই ধাপে ধাপে টার্মিনালটি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা ও সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাত আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN