যাত্রীদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন সৌদি বিমানবন্দরের কর্মী

সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বিমানবন্দরের কর্মী সুলতান বিন আলি আল মাসতুর আল কাহতানি।

সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বিমানবন্দরের কর্মী সুলতান বিন আলি আল মাসতুর আল কাহতানি। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন তিনি। পরে শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার ২১ অক্টোবর দাম্মাম বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি যাত্রীবাহী বিমানের কাছে আগুন ধরে যায়। আগুন বিমানটিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে যান সুলতান ও তার সহকর্মীরা। হাতে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন তারা।

হামলার সময় বিমানবন্দরের ১৯ ও ২০ নম্বর গেটের কাছাকাছি দায়িত্ব পালন করছিলেন সুলতান। আগুনের ভয়াবহতা বাড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা এবং যাত্রীদের নিরাপদ রাখাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। এ সময় নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি।

আগুন নেভানোর কাজ শেষে অফিসে ফিরে আসার পর সুলতান বুকে ব্যথা অনুভব করেন। একই সঙ্গে ধোঁয়ার কারণে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সুলতানের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। সৌদি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার বাবা ছেলের সাহসিকতার কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, জরুরি পরিস্থিতিতে সুলতান নিজের নিরাপত্তার চেয়ে যাত্রীদের সুরক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বিপদের মুহূর্তে দ্রুত সাড়া দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

এদিকে, সৌদি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর চালানো ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দাম্মাম বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং হতাহতের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

সৌদি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় সুলতান ছাড়াও আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আটজন আহত হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষ একজন সৌদি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তবে হামলার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি এবং ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে আরও তথ্য জানানো হয়নি।

বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মীদের ভূমিকা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সুলতানের মৃত্যু তারই একটি উদাহরণ। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে গিয়ে নিজের জীবন হারালেও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তার এই সাহসিকতা বিমানবন্দরের জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের দায়িত্ব ও আত্মত্যাগের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.