ইউরোপজুড়ে বোমা হামলার হুমকি, ব্যাহত ৩০ ফ্লাইট

ইউরোপজুড়ে ভুয়া বোমা হামলার হুমকিতে অন্তত ৩০টি ফ্লাইটের চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

ইউরোপজুড়ে ভুয়া বোমা হামলার হুমকিতে অন্তত ৩০টি ফ্লাইটের চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এসব হুমকির কারণে বেশ কয়েকটি বিমানকে পথ পরিবর্তন করে অন্য বিমানবন্দরে অবতরণ করতে হয়েছে। কোনো কোনো বেসামরিক বিমানকে নিরাপত্তা দিতে যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও বুলগেরিয়ার বিভিন্ন টেলিভিশন স্টেশনেও বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সম্প্রচার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয় এবং কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর ইতালি, বুলগেরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটসহ অন্তত ২৭টি ফ্লাইট এসব হুমকির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ৩ নভেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে ছেড়ে আসা দুটি ফ্লাইটসহ অন্তত সাতটি ফ্লাইট এবং একটি প্রমোদতরী বোমা হামলার হুমকির মুখে পড়ে। সার্বিয়া, ফিনল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের ফ্লাইটকে পথ পরিবর্তন, জরুরি অবতরণ কিংবা অতিরিক্ত নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব বিমান নিরাপদে অবতরণ করেছে। নিরাপত্তা তল্লাশিতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তবে এসব হুমকির পেছনে কারা রয়েছে কিংবা ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

বিমান চলাচলের পাশাপাশি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোও হুমকির শিকার হয়েছে। ৬ নভেম্বর আয়ারল্যান্ডের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা আরটিই, যুক্তরাজ্যের স্কাই এবং বুলগেরিয়ার নোভা টিভিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ইমেইলের মাধ্যমে বোমা হামলার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এতে নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া এবং সম্প্রচার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

আয়ারল্যান্ডে আরটিইর সদর দপ্তরে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় নিয়মিত অনুষ্ঠানের পরিবর্তে আগে থেকে ধারণ করা সংগীত ও বার্তা সম্প্রচার করা হয়। অন্যদিকে, বুলগেরিয়ার সোফিয়ায় নোভা টিভির কার্যালয় খালি করে তল্লাশি চালানো হয়। পরে কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি না থাকায় কর্মীদের কাজে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়।

আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন বলেছেন, বিমান চলাচল ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হুমকিগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি সমন্বিত অভিযানের অংশ, তা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।

এদিকে এসব ভুয়া হুমকিতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ফিলিপ বাউমের মতে, বোমা হামলার হুমকির কারণে প্রতিটি ফ্লাইট পথ পরিবর্তন করলে একটি বিমান সংস্থার সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। এর মধ্যে জ্বালানি, পরিচালন ব্যয়, অতিরিক্ত কর্মী এবং যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থার খরচ অন্তর্ভুক্ত।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবহন কমিশনার অ্যাপোস্টোলোস সিটজিকোস্টাস জানিয়েছেন, ঘটনাগুলোর মধ্যে যোগসূত্র আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার সময় এখনো আসেনি। তদন্ত চলছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান চলাচল নিরাপত্তা তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.