২০১৮ সালে বিমান দুর্ঘটনায় ৫৫৬ জনের প্রাণহানি

২০১৮ সালে বিমান দুর্ঘটনায় ৫৫৬ জনের প্রাণহানি।

২০১৮ সালে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় সারা বিশ্বে মোট ৫৫৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।  এর মধ্যে বাংলাদেশী একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তে নিহত হন ৫১ জন।  দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা বিচারে ২০১৮ ছিল উড়োজাহাজ চলাচল শিল্পের জন্য গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ বছর। বেসামরিক বিমান চলাচল-বিষয়ক তথ্যপঞ্জি এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্ক (এএসএন) সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে।

এএসএনের তথ্যমতে, গত বছর বিশ্বে মোট ১৫টি প্রাণঘাতী উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৫৬ জন। সে তুলনায় ২০১৭ সালে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার সংখ্যা ১০টি, প্রাণহানি হয় ৪৪ জনের। শুধু ২০১৭ নয়, গত পাঁচ বছরে দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা বিচারে বিদায়ী বছরটি ছিল খারাপ বছর। পাঁচ বছরে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির গড় যথাক্রমে ১০ ও ৪৮০। গত বছরের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১০টি স্থান পেয়েছে পাঁচ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ ২৫ দুর্ঘটনার তালিকায়।

তবে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ইতিহাসের মানদণ্ডে হিসাব করলে ২০১৮ সালের অবস্থান এত খারাপ নয় বলে জানিয়েছে এএসএন। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির তুলনামূলক বিচারে বিমান চলাচলের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ বছরের তালিকায় নবম অবস্থানে রয়েছে ২০১৮ সাল। গত ২০ বছরের তুলনামূলক হিসাবেও এখন উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা কম হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এএসএন বলেছে, ২০১৮ সালে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ছিল ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারের। গত ২৯ অক্টোবর জাভা সমুদ্রে এ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ১৮৯ জন। এর আগে জুলাইয়ে কিউবায় একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১১২ জনের মৃত্যু হয়। বছরের প্রথমার্ধে ফেব্রুয়ারিতে ইরানের জাগ্রোস পর্বতমালায় প্লেন বিধ্বস্ত হয়ে মারা যান ৬৬ জন যাত্রী। এরপর মার্চে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে মারা যান ৫১ জন। এছাড়া ছোটখাটো অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে বিগত বছরে।

এএসএন প্রধান নির্বাহী (সিইও) হারো রেন্তার বলেন, অতীতের তুলনায় পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। আগে বছরে গড়ে ৩৯টি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ত। তার মধ্যে ২০০০ সালে ৬৪টি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। তবে ২০১৭ সাল ছিল আকাশপথে ভ্রমণের সবচেয়ে নিরাপদ বছর। ২০১৭-তে যাত্রীবাহী কোনো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়নি। এছাড়া বিগত বছরগুলোর ইতিহাসে কমার্শিয়াল এয়ারলাইনসগুলো সবচেয়ে নিরাপদে ছিল গত বছর।

প্রসঙ্গত, গত বছর বাংলাদেশে কোনো উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা না ঘটলেও দেশের বাইরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক নাগরিক প্রাণ হারান। এজন্য ওই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কান্ট্রি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এএসএনের প্রতিবেদনে। গত ১২ মার্চ ৭১ জন আরোহী নিয়ে ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুগামী বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস২১১ ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। এতে নিহত ৫১ জনের মধ্যে ২২ জন নেপালি ও একজন চীনা নাগরিক। অন্যরা বাংলাদেশী।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.