মানব পাচার প্রতিরোধে এবার রাজধানীতে তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। গত কয়েকদিনে সন্দেহভাজন শতাধিক ট্রাভেল এজেন্সি ও রিক্রুটিং এজেন্টের তালিকা তৈরির পর তাদের বিরুদ্ধে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানের আবাসিক হোটেলগুলো নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। এদিকে বুধবার রাতে নগরীর দারুস সালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০১টি পাসপোর্টসহ শাহ উদ্দিন (৪৫) নামে মানব পাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, শুধু চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার এলাকায় নয়, খোদ রাজধানীতেই মানব পাচারবিরোধী অভিযান চালাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই নির্দেশ পাওয়ার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ কাজ শুরু করেছে। মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে। গত কয়েকদিনে রাজধানীর শতাধিক ট্রাভেল এজেন্সি ও রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইতোপূর্বে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগ উঠেছে, তাদের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই তালিকাধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। মানব পাচারের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা বা অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার এলাকা হচ্ছে নৌপথে পাচারকারী সিন্ডিকেটের সবচেয়ে নিরাপদ রুট। তারা ওই রুট দিয়েই নৌপথে মানব পাচার করে আসছে। কিন্তু এর আগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজনকে ফুসলিয়ে সিন্ডিকেটের সদস্যরা ঢাকায় নিয়ে আসে। তাদের কম ভাড়ার আবাসিক হোটেল অথবা মেচে নিয়ে রাখা হয়। এরপর নৌপথে পাচারের কয়েকদিন আগে ১০-১২ জনের গ্রুপ করে চট্টগ্রাম অথবা কক্সবাজারে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশে মাছ ধরার ট্রলারে তুলে দেয়া হয়।
আরও খবর