বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী পাঠাতে টাকা লাগবে না!

oman-sromikএভিয়েশন নিউজ: বাংলাদেশ থেকে আগামীতে বিদেশে লোক পাঠাতে কোন খরচ হবে না। অভিবাসন ব্যয় শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ব্যয় সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়োগকর্তা বহন করবে। গত ১৪ থেকে ১৬ মে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (জিএফএমডি)’র সপ্তম ফোরাম সভায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সভায় ১৪০টি দেশ ও ৩০টি আন্তর্জাতিক সংস্থা অংশগ্রহণ করে।

গতকাল প্রবাসীকল্যাণ ভবনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিককের বিফ্রিংকালে তিনি এ তথ্য দেন। তিনি বলেন, সভার উদ্বোধনী ভাষণে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন কর্মী অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী বলেন, এর আগে মন্ত্রালয়ের সচিব ও বিএমইটির ডিজি অভিবাসন সংক্রান্ত শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত কলম্বো প্রসেস সিনিয়র অফিসিয়াল সভায় অভিবাসন ব্যয় শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন।

এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব এজন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। পরে ২২শে মে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)’র ডিজির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আইএলও কনভেনশনের ১৮১তে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। এর ফলে ভিসা ট্রেডিং নির্মূল করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রী কর্মী অভিবাসনে বর্তমান সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বলেন বিগত জোট সরকারের আমলে ৯৭টি দেশে গড়ে দুই থেকে আড়াই লাখ কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতো। এখন ১৫৯টি দেশে প্রতিবছর ৫ লাখ কর্মী সুযোগ পাচ্ছে।

তিনি বলেন, নিকট অতীতে একজন কর্মীর সৌদি আরব যেতে ৭-৮ লাখ এবং মালয়েশিয়া যেতে ৩-৪ লাখ টাকা খরচ হতো। শূন্য অভিবাসন ও নিয়ম-নীতির মাধ্যমে বর্তমান একজন কর্মী সৌদি আরবে মাত্র ১৭ হাজার ৪০০ টাকায় এবং জি-টু-জি পদ্ধতির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় ২৪ হাজার টাকায় যেতে পারবেন। ইতিমধ্যে এ খরচে সৌদি আরবে দুই থেকে আড়াই হাজার কর্মী গেছে। তৃতীয় পক্ষের মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা লাভের কারণে আগে অভিবাসন ব্যয় বেশি ছিল।

বর্তমান মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএমইটিতে দক্ষ ও অদক্ষ ২২ লাখ অভিবাসন ইচচ্ছুক কর্মীর ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অভিবাসনের ক্ষেত্রে এ ডাটাবেজ হতে কর্মী বাছাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে শুধু তৃতীয় পক্ষ নির্মূলই নয়, বরং প্রতিটি গ্রাম থেকে অভিবাসনে ইচ্ছুক কর্মী অংশ গ্রহণ করতে পারবে। আরব আমিরাতে লোক নিয়োগের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আলোচনা হয়েছে। সেখানে নিয়ন্ত্রিত লোক নেয়া হবে।

আমরাও তাই চাই। এতে অবৈধ অভিবাসন রোধ করা যাবে। তারাও শূন্য খরচে কর্মী নেযার ব্যাপারে একমত হয়েছে। তিনি জানান, ডেনমার্কে ২৭০০ বাংলাদেশী কর্মরত রয়েছেন। তবে এখানে কাজের আরও সুযোগ রয়েছে। কুয়েতে কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে বলেন, ২১শে মে সচিব ও বিএমইটির ডিজির সঙ্গে কুয়েত এসিসটেন্ট আন্ডার সেক্রেটারি ফর লেবার অ্যান্ড জেনারেল ম্যানেজার অব পাবলিক অথরিটি ফর ম্যানপাওয়ার জামাল আর দৌসারীর দ্বিপাক্ষিক সভায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার ব্যাপারে এ বছর থেকেই প্রতিটি উপজেলায় ট্রেনিং দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। এতে প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখ দক্ষ কর্মী তৈরি হবে। সমপ্রতি বিদেশ থেকে কর্মী ফেরত আসার ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন এ সংখ্যা খুবই কম। এজেন্সিগুলোর মেডিকেল বাবদ অতিরিক্ত ফি আদায় করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন নির্ধারিত ফি ১২০০ টাকা। কেউ অতিরিক্ত ফি গ্রহণ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. গোলাম কিবরিয়া এবং বিএমইটির মহাপরিচালক বেগম শামসুন নাহার।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.