আকাশপথে যাত্রী বাড়লেও এগোয়নি দেশের এভিয়েশন খাত।
আকাশপথে যাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও সেভাবে এগোয়নি দেশের এভিয়েশন খাত। অতিরিক্ত অ্যারোনটিক্যাল চার্জ ও সারচার্জ, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং যন্ত্রাংশ আমদানিতে জটিলতাসহ নানা প্রতিকূলতায় দাঁড়াতে পারছে না দেশি বিমান সংস্থাগুলো।
এতে আন্তর্জাতিক রুটের ৭৫ শতাংশ ব্যবসা এখনো বিদেশি এয়ারলাইন্সের দখলে। সম্ভাবনাময় এ খাতের বিকাশে নীতি সহায়তা চান খাত সংশ্লিষ্টরা।
এক সময় আকাশপথে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীদের একমাত্র ভরসা ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ১৯৯৭ সালে অ্যারো বেঙ্গলের হাত ধরে দেশে যাত্রা শুরু হয় বেসরকারি বিমান সংস্থার। এরপর গেল দুই দশকে একে একে ১০টি এয়ারলাইন্স ব্যবসায় নামলেও টিকে আছে মাত্র তিনটি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনার অভাবই বহর গুটিয়ে নেয়ার বড় কারণ। ঘাটতি ছিল সরকারি নীতি সহায়তারও। বর্তমানে বিমানবন্দর ব্যবহারে অতিরিক্ত চার্জ ও সারচার্জের সঙ্গে জ্বালানির উচ্চমূল্য, অপারেশনে থাকা এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউএস বাংলার সিইও ইমরান আসিফ বলেন, ইনফ্রাস্ট্রাকচারের দিক থেকে আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। আর কিছু পলিসিতে আমরা পিছিয়ে। আমরা যে দামে তেল কিনছি তখন বিদেশিদের থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে।
রিজেন্ট এয়ারের সিইও আশীষ রায় চৌধুরী বলেন, ঢাকা থেকে যখন অন্য যায়গায় যাচ্ছি তখন খরচ ল্যান্ডিং ১২শ টাকা। কিন্তু সেই বিমানটি যখন ফিরে আসছে তখন ল্যান্ডিং খরচ হয়ে যায় ৫ হাজার ডলার।
এদিকে, এতদিনেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ হ্যাঙ্গার সুবিধা দিতে না পারায় উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে বেসরকারি এয়ারলাইন্সের। জটিলতা কাটেনি খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতেও। যে কারণে ব্যাহত হচ্ছে বহর ও রুট সম্প্রসারণ।
এয়ারলাইন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, হ্যাঙ্গার ছাড়া তার মেইনটেনেন্স হবে কিভাবে, রাখবে কোথায়? এজন্য খরচ বাড়ছে।
উপযুক্ত সেবা পেতে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোকে সিভিল এভিয়েশনের বকেয়া পাওনা পরিশোধের আহ্বান বিমান সচিবের।
বিমান সচিব মহিবুল হক বলেন, এখানে অ্যরোনোটিক্যাল চার্জ সবার জন্য সমান। কাউকে বাড়তি সুবিধা দেয়ার সুযোগ নেই। আর প্রত্যেকটা দেশে এয়ারলাইন্সের কাছে সিভিল আমাদের সিভিল এভিয়েশন টাকা পাবে। তারা দিতে কাল ক্ষেপণ করছে।
প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে জ্বালানি ও বিমানবন্দরের বিভিন্ন চার্জের ক্ষেত্রে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য পৃথক নীতিমালা চান খাত সংশ্লিষ্টরা।