চলতি বছর হজযাত্রীদের দুর্ভোগ কমাচ্ছে ‘রোড টু মক্কা’

চলতি বছর হজযাত্রীদের দুর্ভোগ কমাচ্ছে ‘রোড টু মক্কা’।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগে হজ যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল চরমে। লাগেজ নিয়ে ভোগান্তি, সৌদি ইমিগ্রেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা। তবে এবার হজ যাত্রীদের সেই দুর্ভোগ কমেছে ‘রোড টু মক্কা’ প্যাকেজে। কারণ হজ যাত্রীদের লাগেজ বহন করা ও সৌদি ইমিগ্রেশন এবার সম্পন্ন হচ্ছে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই। আর তা করে দিচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারই প্রথম রোড টু মক্কা সেবা চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানের ১২২টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ৬২ হাজার হজযাত্রী রোড টু মক্কা’র আওতায় বিশেষ এই সেবা পাচ্ছেন। যার মাধ্যমে হজ যাত্রীদের নিজেদের লাগেজ বহন করতে হচ্ছে না। সৌদি সরকারই তাদের লাগেজ সেখানকার থাকার বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে। আর শাহজালালেই সৌদি তথা জেদ্দা অংশের ইমিগ্রেশন শেষ হচ্ছে। তবে আগামী বছর থেকে এই রোড টু মক্কা সেবার শতভাগ বাংলাদেশ পাবে বলে মনে করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বাংলাদেশের হজ যাত্রীর কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার হজ যাত্রী যাওয়ার কথা। এছাড়া ৫৯৮টি বেসরকারি এজেন্সি এ বছর হজ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। হজ যাত্রীদের প্রথম হজ ফ্লাইট শুরু হয় ৪ জুলাই। ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর। আজ পর্যন্ত সৌদি ভিসা পেয়েছেন প্রায় ৯৫ হাজার হজ যাত্রী আর বাকি আছে প্রায় ৩০ হাজার হজ গমনেচ্ছুদের ভিসা। এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে সৌদি সার্ভারে ভিসা জটিলতা দেখা গেলেও বর্তমানে সার্ভার দ্রুত গতিতে কাজ করছে। তবে ভিসা জটিলতার কারণে ১৫১ জন হজ গমনেচ্ছুকদের ভিসার কারণে ফ্লাইট মিস হয়। তাদেরকে বিভিন্ন ফ্লাইটে সৌদি পাঠানো হচ্ছে।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন্স অব বাংলাদেশ (হাব) এর সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, বর্তমানে যাত্রীদের কষ্ট দূর করতে ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং হাব একযোগে কাজ করছে। আগে সৌদি সার্ভারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ভিসা পেতে বেগ পোহাতে হলেও বর্তমানে কোনো সমস্যা নেই। আর যেসব হজ যাত্রী ফ্লাইট মিস করেছিলেন ভিসা না হওয়ার জন্য তাদেরকে প্রতিদিন কোনো না কোনো ফ্লাইটে করে পাঠানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, এবার হজ হবে বাংলাদেশিদের জন্য স্মরণীয়। যেকোনো বছরের চেয়ে এবার হজ যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি হবে না। এছাড়া রোড টু মক্কা প্যাকেজের কারণে যাত্রীদের এবার লাগেজ বহন করতে হচ্ছে না। সৌদির ইমিগ্রেশন বাংলাদেশেই হচ্ছে। আমরা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। তবে কিছু সমস্যা যে নেই সেটা কিন্তু নয়। আমরা প্রতিনিয়ত শিখছি এবং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে আরও ভালো করার চেষ্টা করছি। আর লাগেজ হারানো কিংবা খুঁজে পাওয়ারও কোনো ভোগান্তি নেই। তিনি আরো বলেন, রোড টু মক্কা’র আওতায় হজ যাত্রীরা স্বচ্ছন্দে এবং কোনো প্রকার দুর্ভোগ ছাড়াই মক্কায় যেতে পারছেন।

এছাড়া, বর্তমান সময় অবধি এখন পর্যন্ত কোনো হজ ফ্লাইট বাতিল করা হয়নি। কারণ, আমরা সিস্টেম মোতাবেক কাজ করছি। একই সঙ্গে হজ যাত্রীদের সেবা দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN