১০ রুটে অর্ধেকের বেশি ফ্লাইট বন্ধ করে দিলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
সিভিল এভিয়েশনের আয় নেমে এসেছে মাসে ৫০ কোটির নিচে
জোবায়ের অভি : করোনা ভাইরাসের কারণে ১০টি রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুনের বেশি কমানোর কথা জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। কাতার রুটটি অনিদৃষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এরআগে শনিবার ঢাকা- কুয়েত রুটও বন্ধ করা হয়েছিল। সোমবার বন্ধ করা হলো কাতার রুট।
শুধু বিমানই নয়, করোনা ভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বে সব ধরনের এয়ারলাইন্সও তাদের নিজ নিজ ফ্লাইট সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। একারণে বেসামরিক বিমান চলাচল কতৃপক্ষের (বেবিচক) আয়েও বড় ধরনের ধস নেমেছে। বেবিচকের সহকারি পরিচালক (হিসাব) আনোয়ার হোসেন বলেন, চলতি অর্থ বছরে (২০১৮-১৯) বেবিচকের আয় ছিল ১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে মাসে আয় ১২০ কোটি থেকে ১৩০ কোটি টাকা। কিন্তু গত দুই মাস ধরে এই আয় নেমে এসেছে ৫০ কোটি টাকার নিচে।
বেবিচকের অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, যাত্রীবাহি ফ্লাইটের পাশাপাশি সিডিউল নন সিডিউল কার্গো ফ্লাইটও অনেক কমে গেছে। একারণে তাদের আয়ে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে এবছর বেবিচকের আয়ে বড় ধরনের ধস নামবে।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোকাব্বির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে যাত্রী কমে যাওয়ায় তারা ১০টি রুটে ৭৪টি ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কাতার এবং কুয়েত রুট দুটি বন্ধ করা হয়েছে সংশ্লিস্ট দুই দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে।
তিনি জানান, বিশ্বের ১০টি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৪২টি ফ্লাইট চলাচল করতো। এরমধ্যে ৭৪টি ফ্লাইট কমিয়ে আনা হয়েছে। এখন সর্বমোট ৬৮টি ফ্লাইট চলাচল করছে বলেও জানান তিনি।
যেসব রুটে ফ্লাইট কাটছাট করা হয়েছে সেগুলো হল কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, কাঠমান্ডু, দিল্লি, কলকাতা, জেদ্দা ও মদিনা, কুয়েত এবং দোহা।
কতদিন এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে এমন প্রশ্নে মোকাব্বির হোসেন বলেন, কুয়েত আর আর কাতার যেহেতু নিজেরাই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাই সেখানে আমাদের কিছু করার নেই। ওই দেশের সরকার নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নিলে তখন যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে। আর করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং যাত্রী সংখ্যা বাড়লে অন্য রুটগুলোতে ফ্লাইটের সংখ্যা আবার আগের মতো বাড়ানো হবে বলেও জানান বিমান বাংলাদেশ এয়়ারলাইন্সের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
