পাহাড়ে তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু উৎসব

bijhu-festival-lrg-320160407190931আস্যা রাইতোয় বিষু রাইত, বহু-র মারাত এক্কোয়া রাইত। অর্থাৎ আজকের রাতটি বিষুর রাত, বছর শেষে একটি রাত। তিন পার্বত্য জেলায় চলছে আনন্দের ধুম। ত্রিপুরাদের বৈসুর (বৈ), মারমাদের সাংগ্রায়ের (সা) চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের বিঝু/বিষুর (বি) থেকে বৈসাবি হলেও তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানকে ‘বিষু’ বলা হয়।

বিষুকে তিন নামে অভিহিত করা হয়। যথা ফুল বিষু, মূল বিষু (চৈত্র সংক্রান্তির শেষ দু’দিন) ও গুজ্জা-পূজ্যা দিন বা নতুন বছর। বিষু উৎসবে তঞ্চঙ্গ্যাদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় খেলা ঘিলা।

তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মতে, ঘিলা তঞ্চঙ্গ্যাদের পবিত্র ফল। এটি জঙ্গলি লতায় জন্মানো এক প্রকার বীজ বা গোটা। তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, ঘিলার লতায় ফুল থেকে বীজ (গোটা) জন্মালেও এর ফুল পবিত্র দেবংশি (স্বর্গীয়) বস্তু হওয়ায় সাধারণ মানুষ ঘিলা ফুলের দেখা পান না। শুধুমাত্র যারা মহামানব হয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন তারাই এ ফুলের দেখা পান। ফুলের পরিবর্তে ঘিলা পবিত্র হিসেবে সংগ্রহ করা হয়।

আরো জানা যায়, ঘিলা তাদের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি খেলা। নারী-পুরুষ উভয়েই এই খেলায় অংশগ্রহণ করেন। তারা বিশ্বাস করেন, তাদের ঘরের দরজায় ঘিলা ঝুলিয়ে রাখলে অপদেবতা থেকে মুক্ত থাকা যায়। সেই হিসেবে বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে তারা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ঘিলা খেলা মহাআনন্দের সঙ্গে।

বান্দরবানের তালুকদার পাড়ার বাসিন্দা রুবেল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, এবারো সবাই ঘিলা খেলায় মেতে উঠবো। অনেক আনন্দের খেলা এটি। পরজীবনে সুখ-সমৃদ্ধি লাভের জন্য বড়দের আশীর্বাদ গ্রহণ করবো।

প্রতিবারের ন্যায় এবারো বান্দরবানের রেইচা সাতকমল পাড়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হবে এই বিষু উৎসব। তাই ‘‘সাবলীল ভবিষ্যৎ রচনায়, বরণীয় শাশ্বত বিষু’’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বুধবার সকালে সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু উৎসব (বৈসাবি) শুরু হবে।

আগামী বুধবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৮টায় সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসানো এবং একই দিন সকাল ১০টায় ঐতিহ্যবাহী পাজন তরকারি পরিবেশন ও বিকেল ৬টায় তঞ্চঙ্গ্যা এবং চাকমাদের বিষু/বিজু উদযাপনের লক্ষ্যে ও ঐতিহ্যে তুলে ধরে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও একই দিন রাত ৭টায় সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠান এবং রাত ১০টায় গীংখুলি (ঘিলা খেলা) আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়াও ১৪ তারিখ সকাল ৭টায় নতুন বছরে পিঠা ও মিষ্টান্ন পরিবেশন এবং বিকেল সাড়ে ৩টায় বয়ো জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের নিকট আশীর্বাদ গ্রহণের মধ্যদিয়ে পবিত্র জলে স্নান করানো ও সন্ধ্যা ৬টায় সমগ্র জাতির শান্তি সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামানোর লক্ষ্যে বৌদ্ধ বিহারে প্রার্থনার মাধ্যমে ইতিটানা হবে বৈসাবি উৎসব।

উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, অনুষ্ঠানকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ১৩ এপ্রিলের আগেই সব আয়োজন সম্পন্ন হবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.