দেশব্যাপী চলছে অঘোষিত লকডাউন। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহণ। জেলা শহরের সড়কগুলোতে চলছে হাতেগোনা রিকশা ও ইজিবাইক। যদিও ইজিবাইকে স্বাভাবিক সময়ের মতো বেশি যাত্রী নেয়া মানা। কিন্তু মানুষের পেটের দায় ঠিকই বাড়িয়ে দিয়েছে উদ্ভাবনী শক্তি। ঝিনাইদহে ইজিবাইককে বিশেষভাবে কাস্টমাইজড করে নিয়েছেন এক চালক। ছোট্ট একটি ইজিবাইকের চারটি দরজা করেছেন তিনি। প্রত্যেকটির মাঝখানে পার্টিশন। ফলে যাত্রীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করতে পারছেন।
এই অভিনব উদ্ভাবনটি করেছেন ঝিনাইদহ শহরের কানপুর গ্রামের সোহরাব মন্ডলের ছেলে রফিকুল ইসলাম নয়ন। এক সপ্তারের চেষ্টায় নিজের ইজিবাইকটি কেটে চারটি দরজা বানিয়েছেন তিনি। মাঝখানে দিয়েছেন পার্টিশন। ফলে একাধিক যাত্রী উঠলেও তাদের আর মুখোমুখি বসতে হচ্ছে না। এতে কিছুটা হলেও নিরাপদ থাকা যাবে বলে আশ্বস্ত হচ্ছে যাত্রীরা। ফলে নির্ভয়েই তারা এ ইজিবাইকে উঠছেন। এই সঙ্কটের সময় নয়নের আয় রোজগারও হচ্ছে।
এই বুদ্ধিটা কীভাবে মাথায় এলো জানতে চাইলে নয়ন বলেন, কয়েকদিন ধরে বাড়িতে বসে ছিলাম। ইজিবাইক নিয়ে বাইরে বের হলে পুলিশ সমস্যা করে। কারণ ইজিবাইকে একাধিক যাত্রী থাকেন। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। বাড়িতে বসে থাকলে তো সংসার চলবে না। দিন আনা দিন খাওয়া সংসার। কী করা যায় ভাবছিলাম। প্রথমে আলাদা আলাদা আসন তৈরি করার বিষয়টি মাথায় আসে।
কয়েক দিনের চেষ্টায় নিজের গ্যারেজে বসে কাস্টমাইজড ইজিবাইকটি নিজেই তৈরি করেন নয়ন। এখন রাস্তায় বের হলে পুলিশও কিছু বলে না। আবার যাত্রীরাও ভালো বলছে। নয়নের আয় রোজগারও বেড়েছে।
আলী হাসান নামের এক যাত্রী বলেন, যে পদ্ধতিতে ইজিবাইক তৈরি করা হয়েছে সত্যিই বর্তমান সময়ের জন্য উপযোগী। একজন যাত্রী অন্যজনের সংস্পর্শে আসছে না। কেউ কারো সঙ্গে কথাও বলতে পারছে না।এ ইজিবাইকে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম বলেন, রফিকুল ইসলাম যে পদ্ধতিতে ইজিবাইক তৈরি করেছেন তা প্রশংসনীয়। তিনি পার্টিশন করার জন্য মাঝখান দিয়ে যা দিয়েছেন তা ফিল্টারের কাজ কিছুটা করবে। তবে কাচ বা নিরেট কিছু দিলে ভালো হবে।
নয়নের এ উদ্ভাবনের খবর পেয়ে তাকে নিজ অফিসে ডেকেছিলেন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ। তিনি বলেন, তিনি আমার অফিসে আসার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উপহার তুলে দিয়েছ এবং তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। তাকে সার্বিক সহযোগিতা করারও আশ্বাস দিয়েছি।