করোনায় থমকে যাওয়া ইতালি ফের চলতে শুরু করেছে

ইতালিতে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ফলে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জীবন ও জীবিকা।

দেশটির সরকারের সর্বোচ্চ চেষ্টায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যা বাড়ায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে সবকিছু।

করোনার প্রাদুর্ভাব কমতে থাকায় ধাপে ধাপে শিথিল করা হয় লকডাউন। ব্যস্ততম রাস্তাগুলো এখন মুখরিত মানুষের কোলাহলে।

ইতালিতে দুই ধাপে এখন পর্যন্ত খোলা হয়েছে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কাজে যোগ দিয়েছেন কর্মজীবীরা। কাজে ফিরেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। তবে কিছু বিধিনিষেধ এখনো তুলে না নেওয়ায় বেকার অবস্থায় আছেন অনেকেই।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। পরে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। ইতালিতে করোনার প্রথম প্রাদুর্ভাব শুরু হয় ২১ ফেব্রুয়ারি। এরপর থেকেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় দেশটি।

আগামী ৩ জুন থেকে অবাধে চলাচলের নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হবে। খুলে দেওয়া হবে বিমানবন্দরগুলো। ৩ জুন থেকে চালু হবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিমান ।

এদিকে, ইতালিতে গ্রীষ্মেই ফিরবে পর্যটক, এমন পরিকল্পনা করছে সরকার। গত শুক্রবার (২২ মে) ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইজি দি মাইও বলেছেন, ‘সরকার এই গ্রীষ্মে পর্যটকদের ইতালিতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।’

ইতালির সিভিল প্রোটেকশন এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, করোনায় গত বুধবার পর্যন্ত ইতালিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩ হাজার ৭২ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৩১ হাজার ১৩৯ জন। ইতালিতে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ১০১ জন।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কোন্তে জাতির উদ্দেশে বলেছেন, ‘ইতালির এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে নাগরিকদের। নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’ করোনার প্রভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় সবাইকে নিয়ম মেনে চলতেও আহ্বান জানান তিনি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.