বিমানবন্দরের চার্জ ৩৩% বাড়ানোর পরিকল্পনা বেবিচকের

বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অ্যারোনটিক্যাল চার্জ বা বিমান চলাচলসংক্রান্ত ফি সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অ্যারোনটিক্যাল চার্জ বা বিমান চলাচলসংক্রান্ত ফি সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত টিকিটের দামে পড়তে পারে, ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রস্তাবিত চার্জ সংশোধনের নথিতে উড়োজাহাজ অবতরণ, বোর্ডিং ব্রিজ ব্যবহার, রুট নেভিগেশন এবং নির্ধারিত সময়ের বাইরে বিমানবন্দর পরিচালনার ফি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে যাত্রীপ্রতি বিমানবন্দর ব্যবহারের ফি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

তবে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। বেবিচকের সদস্য (অর্থ) ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ নাজমুল হক জানিয়েছেন, চার্জ সমন্বয়ের জন্য নিয়মিত প্রস্তুতি ও প্রাথমিক মূল্যায়ন করা হয়। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ফ্লাইটের অবতরণ ফি ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ১০ টন পর্যন্ত ওজনের উড়োজাহাজের প্রতি হাজার কেজিতে চার্জ ৫ দশমিক ২৫ ডলার থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৫৬ ডলার হতে পারে। বোর্ডিং ব্রিজ ব্যবহারের ফিও ২৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে বিমানবন্দর ব্যবহারের চার্জ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ২৭ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ৩৩ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। রুট নেভিগেশন চার্জ বাড়তে পারে ১০ শতাংশ।

যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে এমবার্কেশন ফিতে। প্রস্তাব অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনাল ছাড়া ঢাকার অন্যান্য টার্মিনাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রীপ্রতি ফি ৪ ডলার থেকে বেড়ে ৬ ডলার হবে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ২৫ টাকার পরিবর্তে দিতে হতে পারে ১০০ টাকা। তৃতীয় টার্মিনালের জন্য যাত্রীপ্রতি ১২ দশমিক ৫০ ডলার ফি নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

বেবিচকের যুক্তি, গত এক দশকে পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সংস্থাটির পরিচালন ব্যয় ছিল ১ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। তৃতীয় টার্মিনালের ঋণ পরিশোধ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক নেভিগেশন ও নজরদারি ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাড়তি অর্থ প্রয়োজন।

তবে এয়ারলাইনসগুলো বলছে, চার্জ বাড়লে টিকিটের দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি হবে এবং যাত্রী বৃদ্ধির হার কমতে পারে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মুখপাত্র কামরুল ইসলাম মনে করেন, এতে বহর ও রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে দেশে বিমান ভাড়া আগে থেকেই বেশি। জ্বালানি তেলের অস্থির দাম এবং টিকিটের বাজারে অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে নতুন চার্জ কার্যকর হলে সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে প্রবাসী কর্মীদের ভ্রমণ ব্যয় আরও বাড়তে পারে। ফলে বেবিচকের বাড়তি আয়ের প্রয়োজন এবং যাত্রীদের সামর্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN