ইন্ডিগোর বিমানে ছিনতাইয়ের হুমকি, জরুরি অবতরণ
ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে লখনৌগামী ইন্ডিগোর একটি বিমানে ছিনতাইয়ের হুমকি দিয়ে হাতে লেখা নোট পাওয়াকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে লখনৌগামী ইন্ডিগোর একটি বিমানে ছিনতাইয়ের হুমকি দিয়ে হাতে লেখা নোট পাওয়াকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানের শৌচালয় থেকে উদ্ধার হওয়া ওই নোটে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে বিমান ছিনতাইয়ের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে বিষয়টি জানান। পরে বিমানটি গন্তব্যে না গিয়ে ফিরে আসে বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
রোববার (৮ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। সংবাদমাধ্যমটির বরাতে জানা যায়, ইন্ডিগোর ওই ফ্লাইটে ১৭৮ জন যাত্রী ছিলেন। বেঙ্গালুরু থেকে লখনৌর উদ্দেশে উড্ডয়নের পর যাত্রাপথে বিমানের শৌচালয় থেকে হাতে লেখা হুমকির নোটটি উদ্ধার করেন এক যাত্রী।
নোটে লেখা ছিল, ‘বিমানটি হাইজ্যাক হতে চলেছে ঠিক ৬টা ৩০ মিনিটে। বার্তা অগ্রাহ্য করলে ফল ভোগ করতে হবে।’ এমন হুমকির বার্তা পাওয়ার পর যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর পাইলট দেরি না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এরপর নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিমানটি বেঙ্গালুরুতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই সব যাত্রীকে নিরাপদে বিমান থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা পুরো বিমান তল্লাশি করেন। বিমানের ভেতরে সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা বিস্ফোরক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশও তদন্ত শুরু করেছে। বিমানে থাকা যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কে বা কারা ওই নোট লিখে শৌচালয়ে রেখে গেছে, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে নোটে উল্লেখ করা সময় অনুযায়ী কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে কি না, কিংবা বিমানে কোনো বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিমান ছিনতাইয়ের হুমকি দিয়ে এ ধরনের নোট পাওয়ার ঘটনা ভারতে নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে বিমানবন্দরে ও উড়োজাহাজে এমন হুমকির কারণে নিরাপত্তা তল্লাশি এবং ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটেছে। তবে দিওয়ালি উৎসবের সময় এমন একটি ঘটনা সামনে আসায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিমান চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রতিটি হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। ফলে একটি হাতে লেখা নোটের কারণেও পুরো ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তন, জরুরি অবতরণ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। ইন্ডিগোর এই ঘটনাতেও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।