লোকসানে চীনের তিন শীর্ষ এয়ারলাইনস

চীনের তিন শীর্ষ উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা এয়ার চায়না, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে।

চীনের তিন শীর্ষ উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা এয়ার চায়না, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, টিকিট বিক্রি থেকে আয় কমে যাওয়া এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিগুলোর মুনাফায় ব্যাপক ধস নেমেছে। এমনকি বছরের প্রথম নয় মাসেও লোকসানের মুখে পড়েছে তিনটি সংস্থা।

সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাস চীনের উড়োজাহাজ পরিবহন খাতের সবচেয়ে লাভজনক সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে এ সময়ে যাত্রীদের ভ্রমণ চাহিদা বাড়ে। কিন্তু চলতি বছর সেই চিত্র দেখা যায়নি। বরং বাড়তি জ্বালানি ব্যয়, কম টিকিটের দাম এবং টাইফুনের কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটায় উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এয়ার চায়নার নিট মুনাফা চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ৯২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ২৭ কোটি ৬ লাখ ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসের নিট মুনাফা কমেছে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ। তাদের মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ কোটি ৪০ লাখ ইউয়ান।

অন্যদিকে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মুখে পড়েছে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস। গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ৩৮৪ কোটি ইউয়ান মুনাফা করেছিল। কিন্তু চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের ৬০ কোটি ৯০ লাখ ইউয়ান লোকসান হয়েছে।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস বলছে, এয়ার চায়না ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস করোনা মহামারির পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে লোকসান করছে। অন্যদিকে ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো গত বছর মুনাফায় ফিরেছিল চায়না সাউদার্ন। তবে চলতি বছর আবারও লোকসানে পড়তে পারে সংস্থাটি।

তিনটি উড়োজাহাজ সংস্থাই জানিয়েছে, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়া ও ইউরোপের অনেক উড়োজাহাজ সংস্থার তুলনায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানির দামের ওঠানামার ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম মূল্য নির্ধারণ বা হেজিং কম করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে তাদের পরিচালন ব্যয় দ্রুত বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালের বাকি সময়েও এই আর্থিক চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। এতে চীনের উড়োজাহাজ পরিবহন খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘুরে দাঁড়ানো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.