‘সরাসরি বিমান যোগাযোগ জাপানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত করবে’

বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রটির সঙ্গে সম্পর্ক ৫০ বছরের। তবে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল ছিল না এতদিন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে জাপানের নারিতায় ফ্লাইট চালুর ফলে দুই দেশের বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পেরও প্রসার ঘটবে বলে প্রত্যাশা জাপানে অবস্থানরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এই রুটে ফ্লাইট নেপাল ও ভারতদের যাত্রীদের যাত্রা সহজ করবে।

ঢাকা-নারিতা ফ্লাইটের উদ্বোধনে জাপান প্রবাসী, ব্যবসায়ীসহ স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিয় করে বিমান। স্থানীয় সময় ৪ সেপ্টেম্বর রাতে নারিতায় একটি হোটেলে এই সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশের পরিক্ষীত বন্ধু। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর প্রথম যে কয়টি দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল জাপান তাদের মধ্যে অন্যতম। জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হয় যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে জাপান সফর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছুদিন পূর্বে জাপান সফর করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সরাসরি ঢাকা ও নারিতার মধ্যে বিমান যোগাযোগ চালু করায় প্রবাসীরা বেশি সুফল পাবেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পে অসংখ্য জাপানি নাগরিক যুক্ত আছেন, তারাও উপকৃত হবেন। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং উভয় দেশের নাগরিকরা এর সুফল পাবেন।’

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জাপানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ট্রানজিটের ভোগান্তি থাকবে না। বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঘটবে।’

জাপানে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ড. দুর্গা বাহাদুর সুবেদি বলেন, ‘বিমানের ফ্লাইটের কারণে শুধু বাংলাদেশের নয়, নেপালের নাগরিকরাও উপকৃত হবেন।’

বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফা কামাল উদ্দীন বলেন, ‘বিমানের ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট দুই দেশের এভিয়েশন শিল্প ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং নিত্য নতুন সহযোগিতার খাত উন্মোচিত হবে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আজিম। জাপানে বসবাসরত প্রবাসী ও জাপানিজদের বিমানে ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান বিমান এমডি।

বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন জাপানও বিমানের ফ্লাইট চালু হওয়ায় বাণিজ্য প্রসারের আশা প্রকাশ করে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন–নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আকিহিকো তামুরা, জাপানে বিমানের জিএসএ ওয়েস্টার্ন অ্যাসোসিয়েশন আইএনসি প্রেসিডেন্ট তোমোইচি ওনিশি, জাপানে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাসের বাণিজ্য বিষয়ক ফার্স্ট সেক্রেটারি সুরেশ লাকাভাথ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিমান সাংস্কৃতিক দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ও জাপানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নির্ভর মনোজ্ঞ পরিবেশনার আয়োজন করা হয়।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.