হজের খরচ ৫-৬ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব: হাব সভাপতি

মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য বন্ধ করা গেলে আগামীতে হজের মোট খরচ ৫ থেকে ৬ লাখ

হজের ব্যয় কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার। তিনি বলেছেন, সব ধরনের মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য বন্ধ করা গেলে আগামীতে হজের মোট খরচ ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

শনিবার (১৬ মে) সকালে রাজধানীর আশকোনার হাজি ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনার সার্বিক অগ্রগতি ও প্রস্তুতি তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

হাব সভাপতি বলেন, বর্তমানে হজ প্যাকেজের বড় একটি অংশ চলে যায় বিমান ভাড়া, আবাসন ও বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগীর অতিরিক্ত খরচে। এসব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য হজ পালন অনেক সহজ হয়ে উঠবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে বিমানের টিকিটের মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ করা গেলে হজের সার্বিক খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।”

সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, এবারের হজ কার্যক্রম অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়েছে। তিনি জানান, মোয়াল্লেম চুক্তি, বাড়ি ভাড়া, পরিবহন চুক্তি এবং মিনার তাঁবু নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ সব কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হয়েছে। তবে সময়ের চাপ থাকা সত্ত্বেও সব কাজ সফলভাবে শেষ করা গেছে।

তিনি আরও বলেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, হজ অফিস এবং হাবের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে এবারের হজ ব্যবস্থাপনা আগের তুলনায় আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হয়েছে। যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ একযোগে কাজ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম শুরু হয় গত ১৭ এপ্রিল রাতে। ওইদিন রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম ফ্লাইট সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। প্রথম হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনের বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে যাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিমান ভাড়া বৃদ্ধি, সৌদি আরবে আবাসন ব্যয় এবং বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় হজের মোট ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে অনেক সাধারণ মানুষ হজ পালনে আর্থিকভাবে চাপে পড়ছেন। তাই খরচ কমানোর এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হজ শেষে আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ৩০ জুন ঢাকায় পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে হজ কর্তৃপক্ষ।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.