শাহজালাল বিমানবন্দরে চালু হলো যাত্রীদের জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সেবা
বিনামূল্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু করেছে সরকার। রোববার (১৭ মে) বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে দেশি-বিদেশি যাত্রীরা বিমানবন্দরে অবস্থানকালে সহজেই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন এবং তাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও আধুনিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেট কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং তথ্য আদান-প্রদানের অন্যতম প্রধান অবকাঠামোতে পরিণত হয়েছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার দেশের গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক স্থাপনাগুলোতে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে কাজ করছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালুর মাধ্যমে যাত্রীরা এখন বিমানবন্দরে বসেই দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের অনেক সময় ফ্লাইটের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, অনলাইন টিকিট বা হোটেল বুকিং, অফিসিয়াল কাজ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন। বিশেষ করে বিদেশি যাত্রীদের জন্য এই সেবা বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, সরকার বর্তমানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রযুক্তির সুবিধা যাতে শুধু শহরকেন্দ্রিক না থাকে, বরং গ্রামের সাধারণ মানুষও সমানভাবে ডিজিটাল সেবা পায়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, যেকোনো সংকটকালীন পরিস্থিতিতে টেলিযোগাযোগ সেবা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জরুরি অবস্থা কিংবা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন টেলিকম সেবা দেশের যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও অনুষ্ঠানে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ঢাকায় এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে যান চলাচল পর্যবেক্ষণ, সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ এবং আইন ভঙ্গকারী যানবাহন শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে। এর ফলে রাজধানীর সড়কে ধীরে ধীরে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায়নি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালু দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ গণপরিসেবামূলক স্থাপনাতেও একই ধরনের সেবা সম্প্রসারণ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
