আমিরাতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা, পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

আরব আমিরাতের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার ভোরে সংঘটিত এই হামলায় আবুধাবির বারাকাহ নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে আগুন ধরে যায়। যদিও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পারমাণবিক নিরাপত্তা বা তেজস্ক্রিয়তার মাত্রায় কোনও প্রভাব পড়েনি এবং হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। তবুও ঘটনাটি গোটা অঞ্চলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার সময় আরও দুটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। ড্রোনগুলো পশ্চিম সীমান্ত দিক থেকে প্রবেশ করেছিল বলে দাবি করা হলেও কোন দেশ বা গোষ্ঠী হামলার পেছনে রয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে দেশটির এক শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টা এই ঘটনাকে “সন্ত্রাসী হামলা” আখ্যা দিয়ে বলেন, এর পেছনে সরাসরি কোনো রাষ্ট্র বা তাদের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীর হাত থাকতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে এমন হামলার জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।

একই সময়ে সৌদি আরবও জানায়, তারা রাতভর তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ড্রোনগুলো ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে দেশটিতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। এ ঘটনায় রিয়াদও কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটে জরুরি ডিজেল জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তারা সব পক্ষকে “সর্বোচ্চ সামরিক সংযম” প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে, বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে ইরান বারবার উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব স্থাপনা ও অবকাঠামো হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর আগেও দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানকে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তাদের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।” মঙ্গলবার তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও জানা গেছে।

অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফাজল শেখারচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালালে তারা “অপ্রত্যাশিত ও আরও আক্রমণাত্মক” জবাব দেবে। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল করার অভিযোগ তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি দ্রুত বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.