গোয়েন্দা জালে বিমানের হুন্ডি চক্র, বহাল তবিয়তে অভিযুক্ত শাকুর সহ অন্যরা।
বিশেষ প্রতিনিধি : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর একটি অবৈধ মানি লন্ডারিং ও হূন্ডি চক্রকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে রাস্ট্রের বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই। আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাকি দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ চলা এই চক্রের অন্যতম হোতা আব্দুস শাকুর মুজাহিদ, অংকুর, শফিউল্লাহ সহ প্রায় ডজন খানেক কেবিন ক্রু। কেবিন ক্রু ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয়ে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন শাকুর । ঢাকাস্থ উত্তরার মৃদুলা মানি এক্সচেঞ্জের নাজমুলের সাথে দীর্ঘদিন এই অবৈধ লেনদেন করে আসছিলেন শাকুর। গত ১৪ ই মে দুবাইয়ের ফাইনান্স ম্যানেজার মুস্তাফিজ এর সহযোগিতায় আশ্চর্যজনক ভাবে মাত্র একটি চেকের মাধ্যমে ১৯৬ জন কেবিন ক্রুর বহি:স্টেশন ভাতার প্রায় ১৩ লক্ষ ৪৬ হাজার দিরহাম দুবাইয়ের জনতা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়, এমনকি ২২ এপ্রিল ২০২৬ সালেও ১৬৮ জন ক্রুর বিলশিট কেবিন ক্রু ইউনিয়নের নামে প্রস্তুত করেন যা আইনবহির্ভূত।
ইউনিয়নের নামে বিল প্রস্তুত করা, ঢাকার এজেন্ট মারফত ইউনিয়ন কার্যালয় থেকে হুন্ডির টাকা বিতরণ করা ইত্যাদি কার্যক্রমে ইউনিয়নের সভাপতি ফিরোজ মিয়া আবিরের প্রত্যক্ষ সমর্থনে ঘটছে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অভিযোগ। গত ১৪ ই মে এলাউন্স তোলার পরপরই দুবাই থেকে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য আসে যে, দুবাই থেকে যে এমাউন্ট ক্যাশ করা হয়েছে তা ঢাকায় না এনে বরং দুবাইতে অবস্থানরত এক এজেন্ট এর কাছে আইনবহির্ভূত ভাবে হস্তান্তর করেছে শাকুর ।
আগাম তথ্যের ভিত্তিতে শাহজালাল এয়ারপোর্টে সতর্ক অবস্থান নেয় গোয়েন্দা সংস্থার দায়ীত্বে নিয়োজিত সদস্যরা। দুবাই থেকে বিজি২৪৮ ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করার পর সকল ক্রুকে বিশেষ ভাবে এসকোর্ট করে এয়ারপোর্টে নির্দিষ্ট স্থানে নেয়া হয় এবং তাদের কাছে থাকা ১৩ লক্ষ দিরহাম এবং ডকুমেন্টস দেখাতে অনুরোধ করেন গোয়েন্দা সদস্যরা । প্রত্যেক ক্রুর কাছে কি পরিমান ফরেন কারেন্সি আছে তা লিপিবদ্ধ করা হয়। কিন্তু সাকূল্যে ৭৮ হাজার দিররহাম পাওয়া যায়। কিন্তু এফএস শাকুর এর নামে যেহেতু বিলগুলি ক্যাশ করা হয়েছে তাই তার কাছে বাকি ১২ লক্ষ ২২ হাজার দিরহামের হিসেব চাওয়া হলে তিনি মাত্র ১০ হাজার ডলার এবং ২ হাজার দিরহাম প্রদর্শন করতে সমর্থ হন এবং বাকি টাকা তিনি দুবাইতে এক এজেন্ট এর কাছে রেখে এসেছেন বলে জানান।
অভিযোগ আছে শাকুর ই প্রথম নন বরং তার পূর্বে ফ্লাইট পার্সার হায়দার তার ব্যক্তিগত একাউন্টে ক্রুদের এলাউন্সের প্রায় ৭৭ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিলেন এবং ঢাকা থেকে সে এলাউন্স পেতে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল সাধারণ ক্রুদের। মূলত লাখ প্রতি ২৫০০ টাকা প্রনোদনার অংশ পেতেই সেসময় ব্যক্তিগত একাউন্টে এই অর্থ প্রেরণ করেন তিনি।
ফ্লাইট সার্ভিস একাউন্টস সূত্রে জানা যায় সাধারণ ক্রুদের দুবাই/আবুধাবি/ শারজাহ ফ্লাইট পেতে যেখানে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় সেখানে শাকুর, আবু সালেহ, অংকুর, শফিউল্লাহ প্রায় নিয়মিতভাবে দুবাই, আবুধাবি এবং শারজাহ রুটে ফ্লাইট করেন। বিশেষ করে ক্রুদের মাসিক আউট স্টেশন এলাউন্স প্রস্তুত হবার সাথে সাথেই তাদের দুবাই ফ্লাইট অনেকটা অবধারিত যা নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেন প্রায় বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী কেবিন ক্রু।
ফ্লাইট সার্ভিস সূত্রে আরো জানা যায় যে, বিগত দুই বছরে একক ভাবে শাকুর, অংকুর, আবু সালেহ, শফিউল্লাহরা প্রায় ১০০ কোটি টাকার অথরিটি বিলের মাধ্যমে তুলেছেন এবং অধিকাংশ বিল দুবাই এ হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য ৫ই আগস্টের পর অনেক রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থক রা মধ্যপ্রাচ্যে আশ্রয় নিয়েছেন এবং তাদের অর্থ প্রেরনের চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অবৈধ পন্থা কাজ করছে বলে আ
