ট্রাম্পের ‘মেরিন ওয়ান’ ও যাত্রীবাহী বিমানের ‘নিয়ার মিস’, তদন্তে FAA
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের আকাশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী সামরিক হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’ এবং একটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানের মধ্যে বিপজ্জনকভাবে দূরত্ব কমে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের আকাশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী সামরিক হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’ এবং একটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানের মধ্যে বিপজ্জনকভাবে দূরত্ব কমে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দেশটির ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি মার্কিন বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে হোয়াইট হাউস থেকে অ্যান্ড্রুস জয়েন্ট বেসের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে প্রেসিডেন্টের সরকারি হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’। প্রায় একই সময়ে কাছাকাছি অবস্থিত রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দর থেকে এনভয় এয়ার পরিচালিত আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি এমব্রেয়ার ই-১৭০ যাত্রীবাহী বিমান উড্ডয়ন করে।
সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের বিমান বা হেলিকপ্টার আকাশে চলাচলের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের বাণিজ্যিক বিমান চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত বা স্থগিত রাখা হয়। তবে এই ঘটনায় সেই নিরাপত্তা প্রক্রিয়া যথাযথভাবে কার্যকর হয়নি বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের মধ্যে যোগাযোগে বিলম্ব ও সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে দুই উড়োজাহাজের মধ্যে দূরত্ব এক মাইলেরও নিচে নেমে আসে।
মার্কিন ফেডারেল বিমান চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী, উড্ডয়নরত দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে কমপক্ষে ১.৫ মাইল আনুভূমিক দূরত্ব অথবা ৫০০ ফুট উল্লম্ব দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। এই মানদণ্ডের নিচে দূরত্ব নেমে যাওয়াকে বিমান চলাচল নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় এবং এমন ঘটনা ঘটলে তা আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আনা হয়।
ঘটনার পর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেসাই জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো সময়ই সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘মেরিন ওয়ান’ বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ সামরিক বৈমানিকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং তারা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। তারপরও কীভাবে এই নিরাপত্তা বিচ্যুতি ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফএএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যদিও দুই উড়োজাহাজের মধ্যে নিরাপদ দূরত্বের সীমা অতিক্রম হয়েছিল, তবুও পুরো সময়জুড়ে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল উভয় বিমানের পাইলটদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছিল। পরিস্থিতি দ্রুত পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে রাখার ফলে সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ওয়াশিংটনের এই আকাশসীমা নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কঠোর। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দরের কাছে একটি যাত্রীবাহী বিমান ও সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ৬৭ জন নিহত হওয়ার পর ওই অঞ্চলের আকাশপথে নিরাপত্তা প্রটোকল আরও জোরদার করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক এই ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিমান চলাচল এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার সমন্বয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এফএএ ও এনটিএসবি যৌথভাবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সিদ্ধান্ত, যোগাযোগব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।