এমিরেটস–এসএএর কোডশেয়ার সম্প্রসারণ, যুক্ত ৯ নতুন রুট
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা এমিরেটস এবং সাউথ আফ্রিকান এয়ারওয়েজ (এসএএ) তাদের বিদ্যমান কোডশেয়ার অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা এমিরেটস এবং সাউথ আফ্রিকান এয়ারওয়েজ (এসএএ) তাদের বিদ্যমান কোডশেয়ার অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই চুক্তির আওতায় আরও নয়টি নতুন রুট যুক্ত হয়েছে, যার ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং মধ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীদের জন্য সংযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও বিস্তৃত হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক ঘোষণায় জানানো হয়, সম্প্রসারিত এই চুক্তির মাধ্যমে দুই এয়ারলাইন্সের মধ্যে রিসিপ্রোকাল কোডশেয়ার বা পারস্পরিক কোডশেয়ার ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর এমিরেটস সাউথ আফ্রিকান এয়ারওয়েজ পরিচালিত নির্দিষ্ট ফ্লাইটগুলোতে নিজেদের ফ্লাইট কোড ব্যবহার করতে পারবে।
এর আগে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একমুখী (Unilateral) কোডশেয়ার চুক্তি কার্যকর ছিল। সেই ব্যবস্থায় সাউথ আফ্রিকান এয়ারওয়েজের যাত্রীরা এমিরেটসের মাধ্যমে দুবাই হয়ে জোহানেসবার্গ, কেপটাউন ও ডারবান রুটসহ বিশ্বের ৬৮টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ভ্রমণের সুবিধা পেতেন।
নতুন সম্প্রসারিত চুক্তির আওতায় দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরে জোহানেসবার্গ থেকে কেপটাউন, ডারবান ও পোর্ট এলিজাবেথ—এই তিনটি অভ্যন্তরীণ রুট যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি জোহানেসবার্গ থেকে আফ্রিকার ছয়টি আঞ্চলিক গন্তব্য—কঙ্গোর কিনশাসা, বতসোয়ানার গ্যাবোরোন, নামিবিয়ার উইন্ডহুক, জাম্বিয়ার লুসাকা এবং জিম্বাবুয়ের হারারে ও ভিক্টোরিয়া ফলস—এখন এই কোডশেয়ার সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হবে।
এমিরেটসের ডেপুটি প্রেসিডেন্ট ও প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আদনান কাজিম বলেন, বহু বছর ধরে সফলভাবে চলা সম্পর্কের স্বাভাবিক অগ্রগতি হলো এই পারস্পরিক কোডশেয়ার অংশীদারিত্ব। এর মাধ্যমে এমিরেটসের যাত্রীরা দক্ষিণ আফ্রিকা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর আরও বেশি গন্তব্যে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে এটি দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বৃহত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের প্রতি এমিরেটসের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
অন্যদিকে, সাউথ আফ্রিকান এয়ারওয়েজের ভারপ্রাপ্ত গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাতশেলা সেশিবে বলেন, এই সম্প্রসারিত অংশীদারিত্ব আফ্রিকার অভ্যন্তরে সংযোগ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশাধিকার আরও সহজ করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি বলেন, দুই এয়ারলাইন্সের সম্মিলিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যাত্রীরা আরও বেশি গন্তব্য, উন্নত সংযোগ এবং নিরবচ্ছিন্ন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উপভোগ করবেন।
তিনি আরও বলেন, এই অংশীদারিত্ব শুধু গন্তব্যগুলোর মধ্যে সংযোগ তৈরির জন্য নয়; বরং আফ্রিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ, ব্যবসা এবং অর্থনৈতিক সুযোগকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। একই সঙ্গে এটি আফ্রিকার ভ্রমণ, বাণিজ্য ও পর্যটনের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে জোহানেসবার্গের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।