শাহজালালে নারী উত্ত্যক্তের দায়ে দুইজনের কারাদণ্ড

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নারী যাত্রীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা এবং উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নারী যাত্রীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা এবং উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিমানবন্দরে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে এম আবু নওশাদ খানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে প্রমাণ ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে এম আবু নওশাদ খান।

পোস্টে তিনি জানান, গত কয়েক দিনে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও বিমানবাহিনীর সহযোগিতায় ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর বিভিন্ন ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। সাজা ঘোষণার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর পোস্টে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের একজনের পারিবারিক অবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বর্তমানে নিজস্ব সক্ষমতার তুলনায় প্রায় দেড়গুণ বেশি যাত্রীকে সেবা দিচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই বিমানবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী ও স্বজনদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।

বিশেষ করে যাত্রীদের বিদায় জানানো কিংবা অভ্যর্থনা জানানোর জন্য নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি স্বজন বিমানবন্দরে প্রবেশ করলে ব্যস্ত সময়ে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়। নিয়ম অনুযায়ী, একজন যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন স্বজন বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে পারেন। তবে এই নিয়ম অমান্য করে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করে।

ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ আরও বলেন, অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির ব্যক্তি নারী যাত্রীদের উত্ত্যক্ত ও শারীরিক-মানসিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত এপিবিএন, আনসার ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বিমানবন্দরে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, জনসমক্ষে নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

কেউ বিমানবন্দরে ইভটিজিং বা নারী হেনস্তার শিকার হলে কিংবা এমন ঘটনা প্রত্যক্ষ করলে দায়িত্বরত এপিবিএন, আনসার ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে সরাসরি বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাবে। এ জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৩০৪০৫০৬০৩ দেওয়া হয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN