পরিবারের সদস্যকে বিমানের প্রথম সারিতে আসন না দেয়ায় এক ট্রাফিক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও চাকরি থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন বিমান শ্রমিক লীগের (সিবিএ) এক নেতা। ওই আসনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আসন দেয়ায় তার ওপরও ক্ষুব্ধ হন ওই সিবিএ নেতা। মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বিষয়টি লিখিতভাবে বিমান ম্যানেজমেন্টকে জানিয়েছেন। বিমানের পরিচালক কাস্টমার সার্ভিস আতিক সোবহান সোমবার বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের একটি মেসেজ তিনি পেয়েছেন বলেও জানান।
গত ৬ আগস্ট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান কাউন্টারে এ ঘটনা ঘটে। ওই সিবিএ নেতার নাম মাছুম বিল্লাহ (পি-৩৬৯১৬)। তিনি বিমান শ্রমিক লীগের ট্রাফিক বিভাগের সভাপতি।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, ৬ আগস্ট শ্রমিক লীগ (ট্রাফিক শাখা) সভাপতি মাছুম বিল্লাহ তার এক আত্মীয়ের জন্য বিমানের ঢাকা-বরিশাল রুটের একটি ফ্লাইটের সামনের আসনটি ব্লক করে রাখেন। নিয়ম অনুযায়ী বিমানের প্রতিটি ফ্লাইটের সামনের আসনগুলো ভিআইপিদের জন্য বরাদ্দ থাকে। কোনো ভিআইপি না থাকলে তখন ট্রাফিক বিভাগ তাদের পছন্দের লোকদের কাছে আসনগুলো বণ্টন করতে পারেন।
জানা গেছে ওইদিন বিমানের ওই ফ্লাইটে ৫ জন ভিআইপি ছিলেন। এ কারণে ট্রাফিক বিভাগ শ্রমিক লীগের ওই নেতার ব্লক করা আসনটি বাতিল করে সেখানে ভিআইপিদের জন্য বোর্ডিং কার্ড ইস্যু করেন। খবর পেয়ে মাছুম বিল্লাহ বিমানের কাউন্টারে এসে ট্রাফিক বিভাগের ওই কর্মকর্তাকে খুঁজতে থাকেন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ওই কর্মকর্তার কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে কাউন্টার থেকে বের করে আনেন। এরপর তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ভিআইপিদের একজন পুরো ঘটনাটির দৃশ্য তার মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে ফেলেন। এরপর তিনি ভিডিও রেকর্ডসহ পুরো বিষয়টি অভিযোগ আকারে লিখে বিমানের শীর্ষ ম্যানেজমেন্টকে জানান।
বিমানের ট্রাফিক ও সিকিউরিটি শাখার লগ বইতেও এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি লিপিবদ্ধ আছে বলে বিমানের প্রশাসন শাখা সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত এ ঘটনায় মাছুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ট্রাফিক বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় তারা খুবই মর্মাহত। যদি ম্যানেজমেন্ট কোনো ব্যবস্থা না নেয় তাহলে তারা বাধ্য হয়ে কর্মবিরতিতে যাবেন।