শাহজালাল বিমানবন্দরে পণ্য খালাস বেড়েছে দ্বিগুণ

পণ্যের স্তুপ কমছে কার্গো ভিলেজে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে আমদানি পণ্য খালাস। এতে বিমানবন্দরে খোলা আকাশের নীচে পড়া থাকা বিভিন্ন পণ্যের স্তুপ কমছে।

সোমবার ঢাকা কাষ্টমস হাউজের কর্মকর্তারা জানান, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ঠিকমত পণ্য খালাস না হওয়ায় প্রায় দুই হাজার টনের বেশি বিভিন্ন আমদানি পণ্যের স্তুপ জমেছে বিমানবন্দরে। এ সময় কার্গো গুদামে যায়গা না হওয়ায় বিমানবন্দর রানওয়ের অ্যাপ্রোন এলাকায় খোলা আকাশের নীচে পড়ে থাকে এসব পণ্যের চালান। পরে গত ২৮ এপ্রিল বিমানবন্দরে এক বৈঠকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পণ্য খালাসের ঘোষণা দেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মফিদুর রহমান। এর পর থেকেই সকলের আন্তরিকতায় বেড়েছে পণ্য খালাস। তবে যে সব পণ্যের জটিলতা রয়েছে সেসব ধীর গতিতে খালাস হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মফিদুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আমদানি পণ্য খালাস ব্যাহত হয় বিমানবন্দরে। এদিকে কার্গো পণ্যবাহী ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত থাকায় দিন দিন বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় স্তুপ হয় বিভিন্ন আমদানি পণ্যের চালান। গত এক মাসে প্রায় দুই হাজার টনের বেশি পণ্যের চালান স্তুপ হয় বিমানবন্দরে। কার্গো গুদামে যায়গা না থাকায় অ্যাপ্রোন এলাকায় খোলা আকাশের নীচে পড়ে থাকে বিভিন্ন পণ্যের চালান। বর্ষার মৌসমে নষ্ট হবে এসব পণ্য।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে গত ২৮ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেবিচকের সদর দপ্তরে এক বৈঠক করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পণ্য খালাসের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে ব্যার্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানানো হয়। এর পর থেকেই পণ্য খালাস বেড়েছে।

ঢাকা কাষ্টমস হাউজের কমিশনার মো. মোয়াজেম হোসেন বলেন, সব সংস্থার আন্তরিকতায় বিমানবন্দরে দিগুণ বেড়েছে পণ্য খালাস। ফলে বিমানবন্দরে কমছে বিভিন্ন পণ্যেও স্তুপ। এ ভাবে চলতে থাকলে আগামী ১০ দিনের মধ্যে সিংহভাগ পণ্যের চালান খালাস হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

ঢাকা কাষ্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি শেখ মো. ফরিদ বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন বিভিন্ন সিএনএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের এক শ্রেণির কর্মী। চলমান করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এ সব কর্মী ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সারাদেশে প্রায় ৮ হাজার সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩২ হাজার কর্মী রয়েছে। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এসব কর্মীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব না। এ ছাড়া সিএন্ডএফ মালিকদের আন্তরিক হতে হবে এসব কর্মীদের প্রতি বলে আরও জানান তিনি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.