ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দুই মাসের পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আগামী দুই মাসের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ১৮ মে থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ৫টি ধাপে লকডাউন শিথিল করবে দেশটি। তবে সংক্রমণ বাড়লে আবারো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া হবে বলে সতর্ক করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এদিকে দেশটিতে একদিনে মারা গেছে ২৬৯ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩১ হাজার ৮৫৫ জনে।

লকডাউন নিয়ে রোববার বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ব্রিটেনবাসী সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শরীরচর্চাসহ প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হতে পারবেন। পাশাপাশি বাসা থেকে কাজ করা সম্ভব না হলে কর্মস্থলেও যেতে পারবেন। তবে গণপরিবহনে যাতায়াত না করার উপর গুরুত্ব দেন তিনি। লকডাউনের কারনে ব্রিটেন চরম বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

বরিস জনসন বলেন, এটা সত্য যে, বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমরা দেশকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছি। এ মহামারীতে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যেতে পারতো। যারা এই রোগের বিস্তার রোধে কাজ করেছেন তাদের আমি ধন্যবাদ দিচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, এই পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকে তাহলে আবারো পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া হবে।

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে বৃটেনে মৃত্যুর সংখ্যা ত্রিশ হাজার ছাড়িয়েছে অনেক আগেই, তাড়াহুড়ো করে লকডাউন তুলে নিলে এ বছরের শেষে এ সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে এক লাখ – এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের লকডাউন নিয়ে নতুন পরিকল্পনায় অনেক কিছুই রয়ে গেছে অসম্পূর্ণ । যা নিয়ে চলছে তর্ক বিতর্ক।

ব্রিটেনের বিরোধী দলীয় নেতা কেয়ার স্টারমার বলেন, পুরো জাতি অপেক্ষায় ছিলো একটি সঠিক পরিকল্পনা। বরিস জনসনের ঘোষণায় যথেষ্ট সমন্বয়হীনতা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

লেবার পার্টি দলীয় প্রধান কেয়ার স্টারমার বলেন, আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জাতি যা চেয়েছিল, তা তারা পায়নি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উত্তরের থেকে প্রশ্নই বেশি ছিল। তবে আমি আশা করবো, অচিরেই অঞ্চলগুলোর জন্য ভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সরকারের কাছ থেকে বিস্তারিত ঘোষণা আসবে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৩ মার্চ ব্রিটেনজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.