কুয়েতে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রায় ৮ লাখ ভারতীয়। করোনা মহামারি ও তেলের দামে তার প্রভাব পড়ার জন্য দেশটি এসব ভারতীয়কে জোর করে দেশে ফেরত পাঠাতে পারে। এ বিষয়ে একটি নতুন বিল প্রস্তাব করা হয়েছে।
তাতে কুয়েতে অভিবাসীর মোট সংখ্যা শতকরা ৪০ ভাগ কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, কুয়েতের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১৫ ভাগের বেশি ভারতীয়কে সেখানে থাকতে দেয়া হবে না। এমন খবরে অনেক ভারতীয় শ্রমিক আতঙ্কের মধ্যে অবস্থান করছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
এতে বলা হয় কুয়েতে এই বিপুল সংখ্যক ভারতীয় শ্রমিকের মধ্যে ইলেকট্রিশিয়ান শিবু ক্লিমেন্স অন্যতম।
তিনি উপকূলীয় শহর মানগাফ থেকে টেলিফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, আমি উপসাগরীয় এই দেশে এসেছি এবং কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি সন্তানদের উন্নত জীবনের জন্য। কিন্তু করোনা সঙ্কট এবং এখন কুয়েতের নতুন আইন আমার সেই স্বপ্নকে দুমড়েমুচড়ে দিয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে কাজ হারিয়েছেন শিবু। তার আগে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানের জন্য ৪০ হাজার রুপি পাঠাতেন। কেরালায় তার পরিবারের বাস। তাদের সঙ্গে থাকেন নিজের পরিবারের অন্য সদস্যরাও। কিন্তু কেরালায় তার নিজের কোনো বাড়ি নেই। বিপুল সংখ্যক অভিবাসী ফিরে গেছেন এই রাজ্যে। সেখানে ফিরে গিয়ে কোনো কাজ পাওয়া কঠিন। তাই পরিবার নিয়ে শিবু খুব বেশি আতঙ্কে।
ওদিকে প্রস্তাবিত ওই বিলটি এখনও অনুমোদন করেনি কুয়েত সরকার। তবে গত মাসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি কুয়েতে অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ কমিয়ে আনতে চান। পার্লামেন্টের স্পিকার মাজুক আল গানিম ধারাবাহিকভাবে বিদেশী শ্রমিক কমিয়ে আনার প্রস্তাব করেছেন। প্রথমেই শতকরা ৫ ভাগ কমানোর কথা বলা হয়েছে।
ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে কুয়েতে অদক্ষ শ্রমিকের তেমন প্রয়োজন নেই। পার্লামেন্টের বর্তমান অধিবেশনে এই বিলটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এই অধিবেশন শেষ হবে অক্টোবরে। পার্লামেন্টে অনুমোদিত হলে বিলটি পাঠানো হবে সরকারের কাছে।
