বিদেশের বিভিন্ন হোটেলে আর্টিস্ট ভিসায় নারী পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নাম উঠে এসেছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া নৃত্যশিল্পী ইভান শাহরিয়ার সোহাগের। পরে বৃহস্পতিবার রাতে গভীর রাতে রাজধানীর নিকেতনে ওই নৃত্যশিল্পী বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার নৃত্য অঙ্গনের বেশ কয়েকজন শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে আর্টিস্ট ভিসায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আড়ালে বিদেশের বিভিন্ন হোটেলে নারী পাচার করে আসছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছে নৃত্য শিখতে আসা শিল্পীদেরও বাড়তি উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাচার করতেন এই তারা। এমন বেশ কয়েক জন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েক দফায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন পাচারকারীকে গ্রেফতার করে সিআইডি।
সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক শেখ রেজাউল হায়দার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মানব পাচারের অভিযোগে সোহাগকে গ্রেফতার করেছেন সিআইডি (ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগ) কর্মকর্তারা। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, সোহাগের বাসায় যখন অভিযান চালানো হয়, তখন সেখানে ইনডোর পার্টি চলছিলো। সেখানে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা একজন নায়কও উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন বেশ কয়েক জন নারীও। সেখান থেকে দুই বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
এরআগে, দুবাই পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে গত মাসে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আজম খানসহ তার নারী পাচারকারী চক্রের পাচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। তাদের মধ্যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেই জবানবন্দির ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে সোহাগকে।
পুলিশ জানিয়েছে জবানবন্দিতে আজম খান ও তার সহযোগীরা বলেছেন, এই চক্র মূলত নৃত্যকেন্দ্রিক। কয়েকজন নৃত্য সংগঠক ও শিল্পী এই নেটওয়ার্কের অংশ। জড়িত আছেন ছোটখাটো ক্লাবের কর্ণধারেরাও।
ছোটখাটো ক্লাব বা প্রতিষ্ঠানের যেসব নৃত্যশিল্পী গায়ে হলুদসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে নাচ করেন, তারাই ছিলেন এই পাচারকারী চক্রের প্রধান টার্গেট। দেশের বেশ কিছু জেলায় তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত।