টিকিটের দাম বাড়িয়ে মুনাফা করার ‘ছক’ এয়ার ইন্ডিয়ার

এভিয়েশন নিউজ ডেস্ক :

প্রতিযোগিতার বাজারে এয়ার ইন্ডিয়া পিছিয়ে পড়ছিল। কিন্তু বর্তমানে লকডাউনের বাজারে একচেটিয়া ভাবে তাদের কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে টিকিটের দাম বাড়িয়ে মুনাফা করার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।

অভিযোগ, ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে মূলত পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে যে ফ্লাইট যাতায়াত করছে, তার টিকিটের দাম স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি। এমনকি, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভারত থেকে আমেরিকা এবং ব্রিটেনের টিকিটের যে দাম, তার থেকেও বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে ট্র্যাভেল এজেন্টদের একাংশ জানান।

এয়ার ইন্ডিয়ার সাইটে গিয়ে কোচি থেকে দুবাই যাত্রার ভাড়া প্রায় ৯০ হাজার টাকাও দেখিয়েছে! এয়ার ইন্ডিয়া অবশ্য জানিয়েছে, ওই রুটে টিকিটের বুকিং শুরু হওয়ার আগেই ওই ভাড়াটা ভুল দেখিয়েছে। এখন ওই রুটে ৪৫ হাজার টাকায় টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। বন্দে ভারত রুটের সব ফ্লাইটে টিকিটের ভাড়াই ন্যায্য বলে দাবি করেছ বিমান সংস্থাটি।

ট্রাভেল এজেন্টদের অভিযোগ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এয়ার ইন্ডিয়া একচেটিয়া ফ্লাইট চালানোয় ভাড়া বেড়ে চলেছে। প্রধানত দক্ষিণ ভারত থেকে দুবাই, শারজা, আবুধাবি, বাহরিন, দোহায় প্রচুর শ্রমিক যাচ্ছেন। যে সংস্থায় তাঁরা কাজ করেন, সেই সংস্থাই ফ্লাইটের টিকিট কেটে তাঁদের নিয়ে যাচ্ছে।

ট্রাভেল এজেন্ট ফেডারেশনের পূর্ব ভারতের চেয়ারম্যান অনিল পঞ্জাবিও জানান, যেখানে টিকিটের চাহিদা বেশি সেখানেই দাম বাড়ছে। তাঁর কথায়, “ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে কয়েকটি দেশে বাব্‌ল ফ্লাইট চালু হয়েছে। সেই সব দেশে এয়ার ইন্ডিয়া ছাড়াও অন্য বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা চলছে। এমনকি, বিদেশি উড়ান সংস্থাও সেই সব রুটে চলছে। ওই সব রুটে ভাড়া অনেক প্রতিযোগিতামূলক।” তবে কয়েকটি দেশের সঙ্গে ভারতের এই চুক্তি হয়েছে। বাকি সর্বত্র বন্দে ভারতের উড়ানই চলছে। এয়ার ইন্ডিয়ার থেকে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ভাড়াও বেশি পড়ছে। দক্ষিণ ভারত থেকে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে মূলত এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ফ্লাইট চলছে।

ট্রাভেল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ব ভারতের চেয়ারম্যান মানব সোনির কথায়, “দক্ষিণ ভারত থেকে বাহরিনে বহু শ্রমিক যাতায়াত করছেন। ফলে টিকিটের চাহিদাও বেশি। ৩৭ হাজার টাকা দিয়ে একপিঠের টিকিট কাটতে হচ্ছে।” অথচ কলকাতা থেকে যে নতুন লন্ডনের সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়েছে, তার টিকিট ২৮ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

এখনও ভারত থেকে স্বাভাবিক আন্তর্জাতিক যাত্রী ফ্লাইট চালু হয়নি। বিদেশে আটকে থাকা ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য মে মাস থেকে বন্দে ভারত প্রকল্পে ফ্লাইট চালাতে শুরু করে কেন্দ্র। প্রথমে এয়ার ইন্ডিয়া একচেটিয়া ব্যবসা করলেও পরে বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থাগুলি অনুমতি পেয়েছে। তবে একচেটিয়া এখনও বন্দে ভারত প্রকল্পে ৮০ শতাংশ ফ্লাইট এয়ার ইন্ডিয়াই চালাচ্ছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.