মেহমুদ হোসেন আজ ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি পদে ফিরছেন

বেসরকারি ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের (এনবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদ থেকে পদত্যাগ করা মো. মেহমুদ হোসেন আবার এই ব্যাংকেই ফিরছেন। তিনি আজ ব্যাংকটির এমডি পদে পুনরায় যোগ দেবেন। ২ ফেব্রুয়ারি মেহমুদ হোসেনকে এমডি পদে যোগদানের অনুরোধ জানিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে চিঠি দেয়া হয়। মেহমুদ হোসেন নিজেও চিঠিপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৮ জানুয়ারি ‘ব্যক্তিগত’ কারণ দেখিয়ে মেহমুদ হোসেন ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। জানা গেছে, ব্যক্তিগত কারণ দেখালেও তিনি বেসরকারি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের অনৈতিক চাপে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন।

গত এক যুগে ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রায় সব এমডিই চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন। কেউ কেউ পদত্যাগে বাধ্য হয়ে চাকরি ছেড়েছেন। পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার পর অন্য এমডিরা ফিরে আসার উপায় না পেলেও মেহমুদ হোসেন এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে তিনি ব্যাংকটির এমডি পদে ফিরে আসছেন বলে জানা গেছে।

আকস্মিক পদত্যাগ এবং এরপর ফিরে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে মেহমুদ হোসেন বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণেই আমি ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলাম। কিন্তু ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। পর্ষদ চিঠি দিয়ে এমডি পদে যোগদানের অনুরোধ করেছে। ব্যাংকের সামগ্রিক পরিস্থিতির বিচারেই হয়তো তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার পুনরায় এমডি পদে যোগদান করব।’

মেহমুদ হোসেন পদত্যাগ করার পর গত ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ বিতরণে তৃতীয় দফায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘অফসাইট সুপারভিশন’ বিভাগ থেকে ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়, বেসরকারি খাতের ব্যাংকটি গ্রাহকদের ১০ কোটি টাকার বেশি ঋণ সুবিধা দিতে পারবে না। বিদ্যমান অনুমোদিত ১০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণও অধিগ্রহণ করতে পারবে না ন্যাশনাল ব্যাংক। শতভাগ নগদ মার্জিন ছাড়া কোনো ঋণপত্রও খুলতে পারবে না ব্যাংকটি। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে ঋণ বিতরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বেনামি ঋণ ও ঋণ বিতরণে অনিয়মের কারণে এর আগেও দুই দফায় ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ বিতরণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথম দফায় ২০২১ সালের ৩ মে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রভাবশালীদের তদবির ও চাপের মুখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সে সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে। ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ বিতরণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। এরপর আবারো পরিস্থিতির অবনতি হলে গত বছরের মে মাসে বড় ঋণ বিতরণে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তিন মাস পর ফের ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ বিতরণ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

এবার তৃতীয় দফায় ব্যাংকটির বড় ঋণ বিতরণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ন্যাশনাল ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদে ‘সিকদার গ্রুপের’ একক কর্তৃত্ব রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন প্রয়াত জয়নুল হক সিকদারের স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার। এ দম্পতির আরো তিন সন্তান ন্যাশনাল ব্যাংক পর্ষদে রয়েছেন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.