ট্রেনের টিকিট বিক্রির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট যাত্রীরা

Train20160829191302প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার ঐতিহ্য বাঙালির দীর্ঘদিনের। প্রতি বছর প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে নাড়ির টানে ঘরে ফেরে মানুষ। প্রতিবার পথে সীমাহীন ভোগান্তি, যানজট বা দুর্ঘটনায় সেই আনন্দ পরিণত হয় বিষাদে। কিন্তু গত রমজানের ঈদসহ আসন্ন ঈদুল আজহায় অগ্রিম টিকিট বিক্রির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে সাধারণ যাত্রীরা।

টিকিট-প্রত্যাশীরা লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন কখন তার কাঙ্ক্ষিত সময় আসবে? হাতে পাবেন তার সোনার হরিণ সমতুল্য ঈদের অগ্রিম টিকিট? সেজন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন সবাই। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি তবে প্রথম দিন যারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন প্রায় সবাই টিকিট পেয়েছেন।

ভোরের দিকে রাজশাহীগামী পদ্মা ট্রেনের কাঙ্খিত দিনের টিকিটের জন্য বন্ধুদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকির হোসেন। বলেন, প্রতিবারই ট্রেনে বাড়ি যাই। আগে ট্রেনের টিকিটের জন্য লাইন ধরেও অনেক সময় পাইনি। কাউন্টার থেকে বলা হতো টিকিট শেষ। এছাড়া খুব বেশি পরিমাণ ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় থাকতো। কিন্তু গতবার রমজানের ঈদেও কোন রকম ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। এবারও লাইনে দাঁড়িয়ে খুব সহজেই টিকিট পেয়েছি। এজন্য অবশ্যই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।

লাইনে অপেক্ষার পর একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট পেয়েছেন সাবিনা সুলতানা। বলেন, ট্রেন কর্তৃপক্ষর সার্ভিস আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। তেমন একটা ভোগান্তি ছাড়াই সুন্দরভাবে টিকিট কাটতে পেরেছি। তবে ২৩টি কাউন্টারের মধ্যে নারীদের শুধুমাত্র একটি কাউন্টার রাখা হয়েছে। এটা বাড়ালে আরো ভালো হবে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও নারীদের সুবিধার্থে আলাদা কাউন্টার করা হয়েছে। প্রথমদিন ভিড় একটু বেশি। প্রয়োজন হলে নারীদের জন্য কাউন্টার বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, ঈদে কমলাপুর স্টেশন থেকে ৬৯টি ট্রেন ছেড়ে যাবে। এসব ট্রেন দিনে ৪৬ হাজার ৩৬৫ জন যাত্রী বহন করবে।

নিরাপত্তা, কালোবাজারি রোধে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে কমলাপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মজিদ  বলেন, কাউন্টারের প্রতিটি লাইনে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। এছাড়া আমরা নিজেরা সার্বক্ষণিক ভিডিও করছি। যে কারো আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে জিজ্ঞাসাবাদ করছি আমরা। এদিকে আমাদের টহল টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত আছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট বিক্রির সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী  বলেন, টিকিট বিক্রিতে কালোবাজারি রোধে আমরা সার্বিক ব্যবস্থা নিয়েছি। যারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন সবাইকেই আমরা টিকিট দিতে পারবো আশা করছি।

এছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে ঈদের কারণে বগি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আজ থেকে ঘরমুখী যাত্রীদের জন্য অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। অগ্রিম টিকিট প্রতিদিন ঢাকার কমলাপুর ও চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে সকাল ৮টায় বিক্রি শুরু হয়।

এরপর ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যথাক্রমে দেয়া হবে ৮, ৯, ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বরের টিকিট।

এছাড়া ঈদ-পরবর্তী সময়ে রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট স্টেশন হতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ৫ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অগ্রিম বিক্রি হবে যথাক্রমে ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ এবং ১৮ সেপ্টেম্বরের টিকিট।

একজন যাত্রী সর্বাধিক চারটি টিকিট কিনতে পারবেন এবং বিক্রিত টিকিট ফেরত নেওয়া হবে না। তবে ঈদে উপলক্ষে ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা পথে মৈত্রী ট্রেন চলাচল করবে না।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.