ঢাকা-সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট বাতিল
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার প্রভাবে ঢাকা-সৌদি রুটে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার প্রভাবে ঢাকা-সৌদি রুটে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ১৪৪টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এর ফলে ২২ হাজার ২১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসায় সৌদি আরবগামী এবং দেশটি থেকে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
লাস্টনিউজবিডির ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার রাত পর্যন্ত বাতিল ও স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬৭টি সরাসরি এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পর নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে এসব ফ্লাইটের চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
বাতিল ও স্থগিত হওয়া ফ্লাইটের তালিকায় রয়েছে দেশি-বিদেশি একাধিক বিমান সংস্থা। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি এবং ইন্ডিগোর ৩০টি ফ্লাইট রয়েছে।
এ ছাড়া এমিরেটস এয়ারলাইনসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালামএয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্লাইট চলাচলে এই বিঘ্নের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি, কর্মস্থলে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রী এবং ছুটি শেষে সৌদি আরবে ফেরার পরিকল্পনাকারীরা। অনেক যাত্রীকে ফ্লাইটের নতুন সময়সূচির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রানজিট ফ্লাইট ব্যাহত হওয়ায় অন্য দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও সমস্যার মুখে পড়েছেন।
এদিকে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ফ্লাইটগুলোর নতুন সময়সূচি নির্ধারণে কাজ করছে বেবিচক। সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিমান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার ওপর নির্ভর করছে যাত্রীদের ভোগান্তি কমার বিষয়টি। এ অবস্থায় যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিতের সংখ্যা এবং যাত্রীদের মোট হিসাব শনিবার রাত পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে এসব পরিসংখ্যানে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে হালনাগাদ তথ্য যাচাই করা জরুরি।