রিয়াদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালুর মধ্যেই হুতিদের হামলার হুঁশিয়ারি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিমানবন্দরটি আংশিকভাবে চালুর ঘোষণার পরপরই সেখানে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি বিদ্রোহীরা। এতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং ফ্লাইট চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এ সতর্কবার্তা দেন। তিনি জানান, রিয়াদ বিমানবন্দর এখনও তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত। এ কারণে বিমান সংস্থা, যাত্রী এবং বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের স্থাপনাটি ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বন্ধ থাকা বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সীমিত পরিসরে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। প্রাথমিকভাবে দুটি টার্মিনাল সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় টার্মিনাল-১ থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। অন্যদিকে, টার্মিনাল-২ সৌদি রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিমানবন্দরটির কার্যক্রম আংশিকভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও হুতিদের নতুন হামলার হুমকিতে পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরটির সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বন্ধের মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছিল।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান অবকাঠামোয় গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিকে অন্যতম বড় হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। হামলার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। বিশেষ করে বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে, আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে। হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে বিমান হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। এসব পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও হুতিদের নতুন হামলার হুমকি বিমান চলাচলের স্বাভাবিকতা ফেরানোর পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে ফ্লাইট পরিচালনার অগ্রগতি। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়া জরুরি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN