রাজধানীর পুরান ঢাকার এক তরুণ ব্যবসায়ী হজে যাওয়ার আগে শুক্রবার ছুটির দিনে শ্বশুর বাড়িতে দেখা করতে যান। এসময় শ্বশুর তাকে প্রশ্ন করেন, তুমি কি আগে হজে নাম নিবন্ধন করেছিলে? জামাতার না সূচক জবাবে তিনি ফের প্রশ্ন করেন, তাহলে যাচ্ছো কিভাবে?
এবার জামাতা তাকে রহস্য খুলে বলতে গিয়ে জানায়, বেসরকারি এক হজ এজেন্সী তাকে হজ গাইড হিসেবে নিয়ে যাচ্ছে। সংক্ষিপ্ত প্যাকেজের আওতায় সুষ্ঠুভাবে হজ সম্পাদন করে দেশে ফেরার আশ্বাস দিয়ে সরকার নির্ধারিত হজ ফি’র প্রায় দ্বিগুণ টাকা নিয়েছে।
জামাতা হাসতে হাসতে আরো বলেন, আজ এজেন্সী মালিককে মোবাইল ফোনে বলেছি, ‘ কিরে ভাই, আমি হজযাত্রীদের গাইড দেশে পড়ে আছি আর আমার অধীনে যাদের হজ করার কথা তারা কবেই সৌদি পৌঁছে গেছে।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে হজে প্রাক নিবন্ধন ও নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে বিভিন্ন বেসরকারি এজেন্সীর মালিক পুরান ঢাকার এই ব্যবসায়ীর মতো বিত্তশালীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে গাইডের কোটায় হজে পাঠাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে গাইড হিসেবে বিত্তশালীদের হজে পাঠিয়ে এজেন্সীগুলো ব্যবসা করলেও সাধারণ হজযাত্রীরা বিপাকে পড়ছেন। নতুন জায়গায় গিয়ে রাস্তাঘাটে চলাফেরাসহ নানা সমস্যার সন্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেসরকারি হজ এজেন্সীর মাধ্যমে পাঠানো এক হজযাত্রীর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে জানান, বাবা-মা ফোনে জানিয়েছেন হজ গাইড সঙ্গে না থাকায় মক্কার রাস্তাঘাটে চলাফেরায় তাদের সমস্যা হচ্ছে। এজেন্সীর লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে বলে ভিসায় ঝামেলা হচ্ছে, গাইড আজ না হয় কাল চলে আসবে।
এদিকে সরকারি বেসরকারি হজ ফ্লাইট সোমবার শেষ হচ্ছে। ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮২হাজার ১শ’২৪ জন সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার ৪হাজার ৭৬৩ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৭৭হাজার ৩৬১জন হজযাত্রী রয়েছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১২৩টি ও সৌদি এয়ারলাইন্সের ১২৩ করে মোট ২৪৬টি ফ্লাইটে তারা সেখানে যান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হজ এজেন্সীস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, হজ গাইড হিসেবে হজ পালনের খুটিনাটি বিষয়াদি জানেন শুধুমাত্র এমন লোককেই পাঠানো উচিৎ। মোট ৪৮৩টি এজেন্সীর মধ্যে প্রকৃত হজ গাইড নিয়োগ না দেয়ার বিষয়টির সঙ্গে হাতে গোনা স্বল্প সংখ্যক এজেন্সী জড়িত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।