পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ময়নুল ইসলাম বলেছেন, ছাত্রলীগ এখন নিষিদ্ধ সংগঠন। তাদের কোন রাজনৈতিক অধিকার নেই। কোথাও মিছিল করার চেষ্টা করলে অন্য নিষিদ্ধ সংগঠনের মতোই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে অতীত কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে। অপছন্দ করার কারণে তাদের নিষিদ্ধ করা হয়নি।
আজ শনিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুধী সমাবেশে আরএমপি কমিশনার মজিদ আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সারজিজ আলম, রংপুরের সমন্বয়ক ইমরান আহমেদ, ডা. মো. আশফাক আহমেদ জামিল, শহীদ আবু সাঈদের ভাইসহ পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতারা।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পুলিশ জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারেনি। পুলিশ স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। করোনার সময় পুলিশের মানবিক কার্যক্রম প্রশংসিত হয়েছিল। বর্তমানে আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। তাই আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষার পুলিশ গঠন করতে চাই। ছাত্র জনতার ওপর হামলা করা হয়েছে, তাদের কে পশুর মতো মেরে ফেলা হয়েছে। সঙ্গে আমাদের কিছু সহকর্মী জড়িত ছিল। সেই সঙ্গে মূল ফ্যাসিস্ট শক্তি, স্বৈরাচার শক্তি, সরকার অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরঅস্ত্রের লাইসেন্স যারা পাওয়ার তারা পায়নি। যারা পেয়েছে বৈধ অস্ত্র পেলেও অবৈধভাবে ব্যবহার করেছে। অত্যন্ত দুঃখজনক সেই অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে আমাদের নিরীহ জনগণের ওপর।
আইজিপি বলেন, যে সব অস্ত্র দেওয়া হয়েছিলো সেগুলোর তালিকা করে ইতোমধ্যে সরকারের জিম্মায় নেওয়া হয়েছে। অস্ত্রের নতুন করে বিধিমালা তৈরি হচ্ছে, যাতে করে সরকারের অস্ত্র অবৈধভাবে কেউ ব্যবহার করতে না পারে। এর আগে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার হলেও এবারে বৈধ অস্ত্র জনগণের বিপক্ষে ব্যবহার করা হয়েছে। এজন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে।
আইজিপি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদের পরিবার থেকে যে মামলা দায়ের হয়েছে, সেগুলো অত্যন্ত সুনিপুনভাবে পিবিআই তদন্ত করছে, যারা এর সাথে জড়িত তাদের কোন ছাড় নেই। আবু সাঈদের মামলাসহ রংপুরে ইতিমধ্যে দুই পুলিশ সদস্যসহ ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাগুলোর বিষয়ে পুলিশের হেডকোয়ার্টাস তদারকি করছে। শুধু তাই নয়, ইন্টারন্যাশনাল ভাবে মামলাগুলো তদন্তের আওতায় আসবে, যাতে মামলাগুলো ভালোভাবে তদন্ত হয়। যাতে করে প্রকৃত অপরাধীরা সাজা পায় সেটি নিশ্চিত করছি।
এর আগে সকালে পুলিশের আইজিপি ময়নুল ইসলাম পীরগঞ্জের বাবনপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সারজিজ আলম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলমসহ রংপুর জেলা ও মহানগর পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।
