সন্দ্বীপে ইউএনও কতৃক সাংবাদিক হেনস্তা ও লাঞ্ছনার স্বীকার

সন্দ্বীপ (চট্রগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এভিয়েশন নিউজের স্টাফ রিপোর্টার মিলাদ মুদ্দাচ্ছিকে অফিস থেকে বের করে দিয়ে হেনস্তার করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল ২৬শে ডিসেম্বর ২০২৪, বিকেল সাড়ে ৫টায় এই ঘটনা ঘটে।

উপজেলার বিভিন্ন অনিয়ম অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে প্রবেশের সাথে সাথে সাংবাদিকের উপর চড়াও হয়ে দুর্ব্যবহার করেন ইউএনও রিগ্যান চাকমা। সাংবাদিককে তার কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন তিনি। সাংবাদিক কারণ জানতে চাইলে প্রথমে কোন সদুত্তর না দিয়ে বারংবার তার কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং লাগাতার দুর্ব্যবহার করেন ইউএনও জনাব রিগ্যান চাকমা। তার এমন আচরণে বিষ্মিত হয়ে নাগরিক হিসেবে অফিস থেকে বের করার প্রতিবাদস্বরুপ যুক্তিকতা জানতে চাইলে উত্তর না দিয়ে সিকিউরিটি ডেকে হেনস্তার চেষ্টা করেন জনাব রিগ্যান চাকমা।

এক পর্যায়ে কারণ হিসেবে তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সরকারি মাটি কাটার অনুমোদন, সৈরাচার শাসনামলের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি ও রাজনৈতিক কারণে নাগরিকদের সেবা বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে স্টাটাস দেয়ায় এমন আচরণ করছেন বলে জানান রিগ্যান চাকমা।

প্রসঙ্গত, বিগত সরকারের সময়ের শেষ দিকে জানুয়ারী থেকে মার্চ পর্যন্ত সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব করে মানবিক প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি পান জনাব খোরশেদ আলম চৌধুরী। তিনি দুর্নীতির ও অনিয়মের বিরুদ্ধে বেশ কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিলে ততকালীন সাংসদ মাহফুজুর রহমান ও স্থানীয় চেয়ারম্যানগণের রোষানলে পড়েন। এক পর্যায়ে মাত্র ৩ মাস যেতেই স্টান্ড রিলিজ করিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এমপি মাহফুজুর রহমান মিতার তদবিরে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা সন্দ্বীপ উপজেলায় পদায়িত হন। এবং সাবেক এমপির তাবেদারী করেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এই বিষয়টি নিয়ে গত ২১ শে আগস্ট ফেসবুকে স্টাটাস দেয়ায় সাংবাদিকের উপর এমন চড়াও হন জনাব রিগ্যান চাকমা।

এক পর্যায়ে তিনি কক্ষ ত্যাগ করে বের হয়ে যান, এবং নৌবাহিনীকে নিয়ে আসেন। নৌবাহিনীর কাছে বিষয়টি বর্ণনার পর নৌবাহিনী কোন মন্তব্য না করে বিদায় নেন।

হেনস্তার স্বীকার সাংবাদিক এভিয়েশন নিউজের স্টাফ রিপোর্টার ও মানবাধিকার কর্মী বলেন, জনান রিগ্যান চাকমা সৈরাচারের দোসর, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছে বিভিন্ন শ্রেণীর ভুক্তভোগীগণ। তিনি উদ্যেশ্য প্রনোদিতভাবে অনিয়মের বিরুদ্ধে কন্ঠরোধ করতেই এমন আচরণ করেছেন। এই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহীর পদত্যাগ চেয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক, এবং সুষ্ঠ তদন্ত করে তার দৃষ্টান্তমুলক শান্তি দাবী করেছেন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.