বোয়িংয়ের বড় অর্ডার বাতিল করছে না গালফ এয়ারলাইনগুলো

উপসাগরীয় অঞ্চলের বড় এয়ারলাইনগুলো তাদের বোয়িং উড়োজাহাজের অর্ডার বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম এবং আকাশপথে নানা ধরনের বিধিনিষেধের মধ্যেও উপসাগরীয় অঞ্চলের বড় এয়ারলাইনগুলো তাদের বোয়িং উড়োজাহাজের অর্ডার বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো আঞ্চলিক গ্রাহক তাদের অর্ডার পুনর্গঠন বা উড়োজাহাজ সরবরাহের সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা করেনি।

বোয়িংয়ের মধ্যপ্রাচ্য, গালফ ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাহা আল মেহরি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো এয়ারলাইন এখন পর্যন্ত তাদের বড় উড়োজাহাজ কেনার অর্ডার বাতিল, স্থগিত কিংবা পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেনি।

মধ্যপ্রাচ্য বোয়িংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের মোট অর্ডার ব্যাকলগের প্রায় ১৪ শতাংশ এই অঞ্চলের এয়ারলাইনগুলোর কাছ থেকে এসেছে। এর মধ্যে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সের পাশাপাশি ৭৭৭-৯ ও ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের মতো বড় ও দীর্ঘপাল্লার উড়োজাহাজের অর্ডার রয়েছে।

বিশেষ করে Emirates বোয়িং ৭৭৭এক্স-এর সবচেয়ে বড় গ্রাহক। দুবাইভিত্তিক এয়ারলাইনটির ৭৭৭এক্স মডেলের ২৭০টি নিশ্চিত অর্ডার রয়েছে। এছাড়া কাতার এয়ারওয়েজ ও ইতিহাদ এয়ারওয়েজও বোয়িংয়ের বড় গ্রাহক হিসেবে ৭৭৭-৯ ও ৭৮৭ উড়োজাহাজের অর্ডার দিয়ে রেখেছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের এভিয়েশন খাতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি নেই। আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, জুনে মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনগুলোর যাত্রী চাহিদা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে সক্ষমতা ১১ শতাংশ কমেছে এবং গড় যাত্রী আসন পূরণের হার নেমে এসেছে ৭৬ দশমিক ৩ শতাংশে।

সংঘাতের কারণে অনেক এয়ারলাইন রুট ও ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে জ্বালানি ব্যয়, আকাশপথ পরিবর্তনের কারণে পরিচালন ব্যয় এবং অনিশ্চয়তা। আইএটিএর ২০২৬ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনগুলো সম্মিলিতভাবে ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার লোকসান করতে পারে।

তারপরও বোয়িং মনে করছে, শক্তিশালী আর্থিক সক্ষমতা, সরকারি সহায়তা এবং ইউরোপ-এশিয়া-আফ্রিকা-আমেরিকার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উপসাগরীয় এয়ারলাইনগুলো বর্তমান সংকট সামাল দিতে পারবে।

তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসে আঞ্চলিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে উড়োজাহাজের অর্ডার পিছিয়ে দেওয়া বা বাতিলের আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত অবশ্য বড় অর্ডারগুলো বহাল রেখেই স্বল্পমেয়াদি পরিচালন ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনগুলো।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.