মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি আরও বাড়ানোর সুযোগ।
তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বাড়ছে বেশ কিছুদিন ধরে। দেশটিতে রফতানি আরও বাড়ানোর সুযোগ এখন বাংলাদেশের সামনে। প্রধান প্রতিযোগী চীনের তৈরি পোশাকসহ ২৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে নতুন করে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ শুল্ক্ক আরোপের ঘোষণায় এই সুযোগ তৈরি হলো।
গত শুক্রবার এক টুইট বার্তায় নতুন করে শুল্ক্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে চীনা পোশাক পণ্যে শুল্ক্ক দাঁড়াচ্ছে ৩০ শতাংশ। আগামী ১ অক্টোবর থেকে নতুন এ হার কার্যকর হবে। ট্রাম্প বলেন, বহু বছর ধরে চীনসহ আরও কয়েকটি দেশ বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুবিধা পেয়ে আসছে। এতে চীনের কাছে প্রতিবছর বাণিজ্যে বড় অঙ্কের লোকসান গুনছে যুক্তরাষ্ট্র।
বড় বাজার এবং প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে এই বাণিজ্য বিরোধকে বাংলাদেশের জন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন রফতানিকারক উদ্যোক্তারা। বিজিএমইএর সহসভাপতি মশিউল আলম সজল গতকাল বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে আরও সুবিধাজনক অবস্থান পাবেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের অংশ আরও বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, অনেক দিক থেকেই বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। বিশেষ করে দুই ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্সের তত্ত্বাবধানে কারখানা সংস্কারের ফলে এ দেশের ক্রেতাদের কাছে কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদ সত্ত্বেও সবুজ কারখানাসহ আধুনিক প্রযুক্তির উন্নত কারখানায় বিনিয়োগ করেছেন উদ্যোক্তারা। যুক্তরাষ্ট্রে বাজার বাড়াতে এসব অগ্রগতি কাজে দেবে। তবে ক্রেতাদের সঙ্গে দর কষাকষিতে আরও দক্ষ হতে হবে উদ্যোক্তাদের। তাহলেই সুবিধাটা পুরোপুরি আদায় করা যাবে।
এর আগে গত বছরের জুলাই থেকে দুই দফায় চীনের পোশাক পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ শুল্ক্ক আরোপ করা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক দর প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায়। এই সুবিধায় গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) আগের বছরের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি বেশি হয়েছে ১৫ শতাংশ। গেল অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৬১৩ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের (২০১৭-১৮) তুলনায় রফতানি বেশি হয়েছে ৭৮ কোটি ডলার। মোট পোশাক রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ প্রায় ১৯ শতাংশ।
এদিকে চীনাপণ্যে নতুন করে আরও শুল্ক্ক আরোপে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে দেশটির পোশাক এবং পাদুকা ব্যবসায়ীদের সংগঠন আমেরিকান অ্যাপারেলস অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন (এএএফএ)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে গতকাল সরকারের সমালোচনা করে বলা হয়, সরকারের আসলে কোনো শুল্ক্কনীতিই নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের দু’দিন পর গতকাল সংগঠনের প্রেসিডেন্ট রিক হেলফেনবিন বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা।