গ্রাহকের কাছে বিটিসিএলের পাওনা ৬৫৪ কোটি টাকা

downloadগ্রাহকের কাছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) পাওনা বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি। গ্রাহককে দেয়া টেলিযোগাযোগ সেবার বিপরীতে বিলবাবদ প্রতিষ্ঠানটির এ পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়ার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, যা মোট বকেয়া বিলের ৪২ দশমিক ৫১ শতাংশ।

জানা গেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিটিসিএলের বকেয়া বিলের পরিমাণ ১১০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০ কোটি ৮৩ লাখ ও রেলওয়ের কাছে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিটিসিএলের বকেয়া বিলের পরিমাণ ২৭৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আর ২৫২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৯ সালের একটি অধ্যাদেশের আওতায় বাংলাদেশ টেলিফোন অ্যান্ড টেলিগ্রাফ বোর্ড (বিটিটিবি) গঠন করা হয়। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে টেলিযোগ খাতের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রায় তিন দশক কাজ করেছে এ বোর্ড। ২০০৮ সালে অধ্যাদেশে দুটি ধারা সংযোজনের মাধ্যমে বিটিসিএল ও বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) গঠন করা হয়। আর এ সংশোধনের মাধ্যমে বিলুপ্ত করা হয় বিটিটিবি। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্যানুযায়ী, বিটিসিএলের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত লাখ।

এদিকে বকেয়া এ বিলের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে বিপুল অর্থ। রাজস্ব আয়ের ভাগাভাগির অর্থ, লাইসেন্স ফি ও তরঙ্গ বরাদ্দ ফি-বাবদ প্রতিষ্ঠানটির কাছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাওনা অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ৬৪৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে বিটিসিএলের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, গ্রাহকের কাছে বিভিন্ন সেবা বাবদ বিপুল অর্থ পাওনা রয়েছে বিটিসিএলের। মূলত দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বকেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। তবে বকেয়া অর্থ আদায়ের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বেশকিছু অর্থ পরিশোধ করেছেন সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা।

মূলত ফিক্সড ফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত বিটিসিএল নানা ধরনের লাইসেন্সের আওতায় একাধিক সেবা দিচ্ছে। এসব লাইসেন্সের মধ্যে রয়েছে— ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ), ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি), ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স), ন্যাশনওয়াইড আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) ও ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি)

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.